ঢাকা, সোমবার 28 September 2020, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭, ১০ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

সা ক্ষা ৎ কা র -ড. আহমেদ আবদুল কাদের মহাসচিব বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ

 

যদি সংবাদপত্র হয় নিয়ন্ত্রিত তাহলে জনগণের প্রকৃত অবস্থাটাও হবে নিয়ন্ত্রিত। তাই সংবাদপত্রকে তাদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও বিভেদ দূর করতে হবে। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনটি হচ্ছে- গণমাধ্যমের উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার একটি আইনগত হাতিয়ার। 

সংগ্রাম : দেশের সংবাদপত্র এবং অন্যান্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে দেশ ও জনগণের জন্যে কতটা জরুরী মনে করেন?

ড. আহমেদ আবদুল কাদের : দেশ ও জনগণের জন্য সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যমের গুরুত্ব অপরিসীম। সংবাদপত্র হচ্ছে দেশের আয়না সদৃশ্য। এর মাধ্যমে আমরা দেশের প্রকৃত অবস্থা অবলোকন করতে পারি। গণমাধ্যমে দেশ ও জনগণের সুখ দুঃখ, সমস্যাদী, শাসকদের চরিত্র ও তৎপরতা/অপতৎপরতাসহ সবকিছুই উঠে আসে। এক্ষেত্রে যদি সংবাদপত্রসহ অন্যান্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকে তাহলে দেশের চিত্রটাও বিকৃতভাবে প্রকাশ পাবে। যদি সংবাদপত্র হয় নিয়ন্ত্রিত তাহলে জনগণের প্রকৃত অবস্থাটাও হবে নিয়ন্ত্রিত। শাসকগোষ্ঠি সবসময়ই চায় যে, দেশের আসল অবস্থা জনগণের গোচরে না আসুক। তাই তারা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে  তাদের পছন্দীয় সংবাদ ও বিষয় প্রচার করতে চেষ্টা চালায়। এককথায় নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম শাসকগোষ্ঠির জন্য খুবই কাম্য। আর দেশ, জনগণ ও দেশপ্র্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোর  জন্য স্বাধীন সংবাদপত্রসহ গণমাধ্যম খুবই জরুরী।

সংগ্রাম : দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হলে গণমাধ্যমেও সংকট সৃষ্টি হয়। এর থেকে বেরিয়ে আাসর উপায় কি?

ড. আহমেদ আবদুল কাদের : দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হলে গণমাধ্যমেই শুধু সংকট সৃষ্টি হয় না বরং সব কিছুতে সংকট সৃষ্টি হয়। তাই দ্রুত এ সংকটকে কাটিয়ে উঠতে হবে। সংকটের কারণ যে শক্তি ও যেসব বিষয় সেগুলো থেকে দেশকে মুক্ত করা প্রয়োজন। আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত। সংকট কাটাতে হলে সর্বপ্রথম নির্বাচন ব্যবস্থাকে তার সঠিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এর জন্য সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। তদসঙ্গে রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের অযথা  হয়রানি করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। গণমাধ্যম এক্ষেত্রে জনগণকে সচেতন করা, তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে পারে। তা করতে হলে গণমাধ্যমকে সর্বাগ্রে নিজদের বিরাজমান মতপার্থক্য ও বিভেদ দূর করতে হবে। পেশাগত দায়িত্ব ও স্বার্থ ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা তাদের প্রভাবিত হওয়া সংগত নয়। গণমাধ্যম এক হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণের লক্ষ্যে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে পারলে তাহলে সংকট অনেকটাই কেটে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হবে।

সংগ্রাম : তথ্য-প্রযুক্তি আইন গণমাধ্যমের মাথার উপর ঝুলন্ত খাঁড়ার মত। আপনার অভিমত বলুন

ড. আহমেদ আবদুল কাদের :  এটাতো খুবই স্পষ্ট। আইনটি খসড়া পর্যায় থেকে পাস হওয়া পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে গণম্যাধম কর্মী ও মালিক পক্ষ এবং দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল সবাই বিরোধিতা করেছে। আইনটি হচেছ গণমাধ্যমের উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার একটি আইনগত হাতিয়ার। কারো মুখ বন্ধ করতে চাইলে, কাউকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলেই এ আইনটি প্রয়োগ করা হবে। মূলত তথ্য-প্রযুক্তি আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করার জন্যই এই আইনটি করা হয়েছে।

সংগ্রাম: ১৭ জানুয়ারি দৈনিক সংগ্রামের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠানটির সাংবাদিক-কর্মচারী ও পাঠকের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন। 

ড. আহমেদ আবদুল কাদের: দেশের ঐতিহ্যবাহী ইসলামি আদর্শিক ঘরানার এই দৈনিকটির ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তার সকল সাংবাদিক-কর্মচারী ও পাঠকদেরকে শুভেচ্ছা জানাই।  শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা জনগণের কল্যাণের স্বার্থে আদর্শকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার সংগ্রাম করছেন এই জন্য সংবাদপত্রটির সাথে সংশ্লিষ্ট সব মহলকে মোবারকবাদ জানাই। সাথে সাথে এটাও বলবো যে বর্তমান সরকারের আমলে সর্ব প্রকার ঝুঁকি নিয়ে ইসলামি আদর্শ ও জাতির কল্যাণের প্রতি কমিটমেন্ট নিয়ে একটি পত্রিকা চালানো সহজ ব্যাপার নয়। তারপরও তারা এটি চালাবার চেষ্টা করছেন এর জন্য তাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ। সরকার যেভাবে তার পিছনে লেগেছে তাতে আরো বড় কিছু ঘটে যাওয়াও বিচিত্র নয়। আল্লাহ তাদের হেফাজত করুন।

সংগ্রাম : বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম অংশ খেলাফত মজলিশ। আপনি কি মনে করেন জোট গঠনের উদ্দেশ্য এখনো বর্তমান রয়েছে? যদি থাকে তাহলে কিভাবে?

ড. আহমেদ আবদুল কাদের : জোট গঠনের উদ্দেশ্য ছিলো দেশের মানুষের স্বার্থে সকল সেক্যুলার কার্যত অগণতান্ত্রিক ফ্যাসীবাদী আধিপত্যবাদীর ক্রীড়নক শক্তির রাজনৈতিক মুকাবিলা করে দেশে একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এ উদ্দেশ্য এখনো অর্জিত হয়নি। তাই জোট গঠনের উদ্দেশ্য এখনো বহাল আছে। তবে জোটকে সংহত ও সক্রিয় রাখা জোটের প্রধান শরীকের ভূমিকার উপর নির্ভর করে। শরীক দলগুলো যদি নিজদের বঞ্চিত মনে করে, জোটের রাজনীতিতে যদি তাদের মতামত প্রতিফলিত না হয়, তাহলে জোট থাকার পরও তার কার্যকারিতা থাকবে না।

সংগ্রাম : ২০ দলীয় জোটের বাইরে বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করেছে। ঐক্যফ্রন্টের সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে যদি কিছু বলেন। 

ড. আহমেদ আবদুল কাদের : ঐক্যফ্রন্টের তেমন কোন সফলতা আছে বলে আমি মনে করি না বরং ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড.কামাল হোসেনের কোন কোন বক্তব্য জোটের রাজনীতির সরাসরি পরিপন্থী। মনে রাখা প্রয়োজন বিএনপি গড়ে উঠেছিলো আওয়ামী দুঃশাসনের এন্টি থিসিস হিসেবে, তার প্রতিপক্ষ হিসাবে। কাজেই তার বক্তব্য কর্মসূচি সবই হবে এ প্রেক্ষিতে। এখন যদি হঠাৎ করে কেউ দুশক্তির সমন্বয়ের রাজনীতি করতে চায় তা হলে তা বিএনপি বা ২০ দলের কোন স্বার্থ রক্ষা করবে না। বর্তমান অবস্থায় তাতে কোন কাঙ্খিত ফলও আসবে না। শুধু বার বার প্রতারিত হওয়া যাবে।

সংগ্রাম : দেশে এখন নানাবিধ সমস্যা বিরাজমান। আপনার দৃষ্টিতে চলমান মূল সমস্যাগুলো কি কি? একইসাথে করণীয় কি?

 ড. আহমেদ আবদুল কাদের :  দেশের অনেক সমস্যা আছে এ কথা সত্য। তবে মূল সমস্যাগুলো হচ্ছেঃ   নির্বাচন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া, দেশের অঘোষিত এক দলীয় শাসন কায়েম করা, বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সারাক্ষণ দৌড়ের উপর রাখা, সর্বত্র এক আতংকের পরিবেশ বিরাজ করছে যেখানে মানুষ খোলামেলা কথা বলতে পারছে না, অর্থনীতির অব্যবস্থা প্রায় চরমে, বেকার সমস্যা তীব্র, ব্যাংকে নেই টাকা, সরকারের লাগাম ছাড়া ঝনে ব্যাংকগুলো ফতুর, দ্রব্যমূল্যে কষাঘাতে মানুষের জীবন জর্জরিত, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতির মহোৎসব চলছে, সর্বত্র নিরাপত্তাহীনতা- খুন, ধর্ষণ ইত্যাদি জেকে বসেছে সবমিলিয়ে সমস্যার ভারে সমাজ ও রাষ্ট্র জর্জরিত। এত্থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সর্বপ্রথম অবাধ ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন ব্যবস্থার কোন বিকল্প নেই। আর এর জন্য একটি ব্যাপকভিত্তিক আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।

 সংগ্রাম : অভিযোগ রয়েছে যে, ২০ দলীয় জোট আগের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ নয়, দীর্ঘদিন ধরে জোটের ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচিও নেই। বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন।   

 ড. আহমেদ আবদুল কাদের : কথাটা অসত্য নয়। ২০ দলে কিছুটা শিথিলতা বিরাজ করছে। ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচিও নেই। বিগত একযুগের বেশী ধরে জোটের রাজনীতি ইতিবাচক কোন ফলাফল দেখাতে পারেনি। তদুপরি আছে বঞ্চনার বেদনা, বড় দলের পক্ষ থেকে সহযোগিতার অভাব, পরস্পর বোঝাপড়াটাও যথেষ্ট নয়।

 সংগ্রাম : প্রশাসনসহ সর্বত্র দলীয়করণের একটি অভিযোগ উঠেছে-এটিকে আপনি কিভাবে দেখছেন। 

 ড. আহমেদ আবদুল কাদের :  প্রশাসনসহ সর্বত্র দলীয়করণের অভিয়োগ শুধু নয় বরং এটিই বাস্তবতা। একটি দেশের প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও দক্ষতাকে ধ্বংস করার জন্য দলীয়করণের কোন বিকল্প নেই। বর্তমানে পুলিশসহ সমস্ত বেসামরিক প্রশাসন আওয়ামী লীগের কর্মীবাহিনীর মতো কাজ করছে, যোগ্য যোগ্য কত কর্মকর্তা ওএসডি হয়ে অবসর গ্রহণ করছে। যোগ্যতাকে পাশ কাটিয়ে দলীয় আনুগত্যেও ভিত্তিতেই প্রায় সবক্ষেতে প্রমোশন ইত্যাদিও ব্যবস্থা হচ্ছে। এ জাতীয় কার্যক্রম গোটা প্রশাসনন ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে দিচ্ছে।

সংগ্রাম : আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারেনা, তারপরও বিএনপি নির্বাচনে যাচ্ছে। এটিকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন

 ড. আহমেদ আবদুল কাদের : আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোটায়। তবু বিএনপি যাচ্ছে কেন? বিনএপি যেহেতু বিগত একযুগ ধরে তেমন কোন অর্থবহ আন্দোলন গড়ে তুলতে পারছে না, তাই রাজনীতির মাঠে কিছুটা হলেও দৃশ্যমান থাকার জন্যে এবং সাথে সাথে কর্মীদের ধরে রাখার জন্যও নির্বাচনে যেতে হচ্ছে।

সংগ্রাম : তৃণমূল থেকে সবাই আন্দোলন চায়। আপনি বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন?

 ড. আহমেদ আবদুল কাদের :  সবাই আন্দোলন চায়।চাওয়াই স্বাভাবিক। মূল নেত্রী জেলে। জামিনটা পর্যন্ত পাচ্ছেন না। তদুপরি একটি ফেক ইলেকশনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতায়। পুলিশী অত্যাচারে নেতা-কর্মীরা বাড়িতেও ঘুমাতে পারছেনা। এ সরকার শুধু অবৈধই নয় জালেমও বটে। এমতাবস্থায় তৃণমূলের কর্মীরা আন্দোলন চাওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ বারবার আন্দোলনের হুমকী দিলেও কার্যত কিছুই করতে পারছেন না। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য যে ২০১৪ সালে বিনাভোটে নির্বাচন করে পাঁচ বছর কাটিয়ে দিলো আর আজ আবার ২০১৮ সালে রাতের বেলায় ব্যালট বাক্স ভর্তি করে সরকার গঠন করে এক বছর শান্তি মত কাটিয়ে দিচ্ছে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ধারনা করা যায় আগামী চারটি বছরও কাটিয়ে দেবে। ঐক্যফ্রন্টের ফাঁদে পড়ে আমরা সব হারিয়েছি। এখন ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে হবে। কর্মী ও জনগণকে সংগঠিত করে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প কিছু আছে বলে মনে হয় না।

সংগ্রাম : ২০ দলের শীর্ষ নেতা বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। তার মুক্তির বিষয়ে করণীয় কি? 

ড. আহমেদ আবদুল কাদের : ২০ দলের শীর্ষ নেতা বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। তিনি প্রাপ্য জামিনটুকু পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় প্রায় সব আইনী চেষ্টাও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। এখন বিবৃতি ও আন্দোলনের হুমকী দিলেই অথবা সরকারের দয়া ভিক্ষা করলেই বেগম জিয়ার মুক্তি আসবে না। মুক্তির জন্য প্রয়োজন বাস্তব ও কার্যকরী আন্দোলন।

সংগ্রাম : বাংলাদেশে ইসলামী দল ও ইসলামী আন্দোলনের ভবিষ্যত কি? 

ড. আহমেদ আবদুল কাদের : ইসলামী আন্দোলন বলতে ট্রাডিশনালী যা বুঝি তার তেমন কোন উজ্জ্বল ভবিষ্যত আছে বলে মনে হয় না। যদি সব ধরনের ধর্মীয় বিতর্ক এড়িয়ে আর্থ-সামাজিক এজেন্ডাকে প্রাধান্য নিয়ে ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামে তাহলে অবশ্যই একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যত আশা করা যায় ।

সংগ্রাম :  কেউ বলে বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র আছে, কেউ বলে স্বৈরতন্ত্র। আপনি কি বলেন?

ড. আহমেদ আবদুল কাদের : দেশে গণতন্ত্রের একটি নাম মাত্র আছে। কার্যত চলছে নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র ক্ষেত্র বিশেষে দলীয় স্বৈরতন্ত্র। 

সংগ্রাম : বর্তমান সরকারের অধীনে সিটি ও পৌর নির্বাচনকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?!

ড. আহমেদ আবদুল কাদের : বর্তমান সরকারের অধীনে সিটি ও পৌর নির্বাচন মূলত ২০১৮ এর জাতীয় নির্বাচন থেকে ভিন্নতর কিছু হবে বলে মনে হয় না। যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় তবে সরকার দলীয় প্রার্থীর যে ভরাডুবি হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

সংগ্রাম : চলমান সংকট থেকে উত্তরণের উপায় কী?

ড. আহমেদ আবদুল কাদের : চলমান সংকট থেকে উত্তরণের সহজ কোন পথ নেই। দেশের মানুষকে জাগিয়ে একটি সর্বাত্মক আন্দোলনের মাধ্যমেই চলমান সংকট থেকে উত্তরণ ঘটতে পারে। আর যদি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বোধোদয় ঘটে তাহলে হয়তো আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান হতে পারে। এখন পর্যন্ত  সরকারের সদিচ্ছার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তাই প্রথম বিকল্পটি নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। অর্থাৎ স্ব স্ব দলকে সংগঠিত করা, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণকে সঞ্চালিত করার ম্যাধমে একটি সর্বাত্মক গণআন্দোলন গড়ে তোলা।

সাক্ষাৎকার গ্রহণে দৈনিক সংগ্রামের 

স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ জাফর ইকবাল

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ