শুক্রবার ০২ ডিসেম্বর ২০২২
Online Edition

দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদকের উপর হামলার তীব্র নিন্দা

আমিনুল ইসলাম মুকুল, লন্ডন : যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশী তরুণদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত লন্ডন ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘স্ট্যান্ড ফর বাংলাদেশ’ এর উদ্যোগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি  ‘মানবাধিকার: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ বিষয়ক এক বুদ্ধিবৃত্তিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মো: তরিকুল ইসলামের পরিচালনায় উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহবুব আলী খানসুর। এছাড়া বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবি ও মানবধিকার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরান থেকে তেলাওয়াত করেন অরগানাইজিং সেক্র্রেটারী মোহাম্মদ মাসুদুল হাছান।
স্ট্যান্ড ফর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার বলতে কিছুই নেই। গত ১৩ ডিসেম্বার ২০১৯ একজন বয়োবৃদ্ধ প্রবীণ সাংবাদিক দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক  আবুল আসাদের উপর হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসীরা যে অসভ্য ও বর্বরতার পরিচয় দিয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানাই। তিনি বলেন বর্তমান প্রজন্ম নতুন ভাবে দেশের সার্বিক  সংস্কারের মাধ্যমে একটি উন্নত রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ তৈরীর নিরলস চেষ্টার মাধ্যদিয়ে দেশ ও জাতিকে একটি প্রত্যাশীত সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দিতে তাদের সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে, তাদেরকে তার জন্য কঠিন মূল্যও পরিশোধ করতে হচ্ছে বর্তমান সরকারী দলের মদদে পুলিশ ও তাদের পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়ে, গুম হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে, দেশান্তরীত হতে বাধ্য হওয়ার মাধমে ও খুন হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে।
তিনি আরও বলেন  এর আগেও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের উপর বর্বর হামলা চালিয়ে তাকে রক্তাক্ত করেছিল। কিন্তু সেটার কোন বিচার হয়নি।এসব হামলা শুধু নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উপর নয় বরং দেশের পুরো গণমাধ্যমের উপর হয়েছে।সরকারী দলের প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহনে এবং পুলিশের সহযোগিতায় সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড, বাংলাদেশ প্রোকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবরার হত্যাকাণ্ড ও প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে জোরপূর্বক পদ ছাড়তে ও দেশ ত্যাগে বাধ্য করার মাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনী ব্যাবস্থাকে চূড়ান্ত ভাবে ধ্বংশ করে একটি এক দলীয় ফ্যাসীবাদী সরকার ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যার দায় সরকার প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা এড়াতে পারে না।গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, খুন, ব্যাঙ্ক লুট, শেয়ার বাজার ধ্বংস, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি, সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ছত্রছায়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টর্চার সেল সংস্কৃতি, ধর্ষণের ও দাগি খুনী আসামীদেরকে রাষ্ট্রীয় ভাবে ক্ষমা করার প্রবণতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক বাঁধা প্রদান নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারের চরম অন্তরায় ।এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীসহ সকলকে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।
সংগঠনের সেক্র্রেটারী মো: তরিকুল ইসলাম বলেন একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গনতন্ত্র, মানবাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ফিরিয়ে এনে দেশ ও জনগনের আকাঙ্খিত সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দেয়া সম্ভব।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্ত্যবে মানবাধিকার কর্মী ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহবুব আলী খানসুর বলেন, বর্তমান সরকার জনগনের ভোটে নির্বাচিত নয়। যে কোন সময় দেশে  সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরী হবার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি অবিলম্বে বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহবান জানান। অন্যথায় ভবিষ্যতে বর্তমান অনির্বাচিত সরকারকে বিচারের সম্মূখিন করে তাদের সকল অন্যায় ও অবিচারের ন্যায় সঙ্গত বিচারের মাধমে দেশে একটি সুষ্ঠ পরিবেশ তৈরী হবে।
প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন মোল্লা, অগানাইজিং সেক্র্রেটারী মোহাম্মদ মাসুদুল হাছান, আইটি সেক্র্রেটারী মো: তারেক আজিজ রোমান, মিডিয়া সেক্রেটারী মো: আমিনুল ইসলাম, ইসতিয়াক হোসাইন, মহিউদ্দিন মাসুদ, বাবুল আহমেদ, মো: ফরিদ আহমদ, জয়নাল মোহাম্মদ , আহমেদ সুহান, আবুল কালাম, জাইনাল আবেদীন, মো: শাওকত হাসান, মহিউদ্দিন, আহমদ আলী প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ