ঢাকা, রোববার 31 May 2020, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৭ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ভারতে ঘরে আবদ্ধ থাকার নিয়ম না মাানায় খেসারত দিল এক পরিবার

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:আইসোলোশন বা ঘরে আবদ্ধ থাকার নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানোর খেসারত দিতে হয়েছে পাঁচ সদস্যের এক পরিবারের।ফলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নদিয়ার তেহট্টের পরিবারটির প্রত্যেকেই করোনায় আক্রান্ত।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করোনা মোকাবিলায় সাধরণ মানুষের কাছে কাতর স্বরে আবেদন করলেও তা কর্ণপাত করেনি তেহট্টের ওই পরিবার। যার মাসুল গুণতে হয়েছে ৯ মাস, ৬ বছর এবং ১১ বছরের তিনটি শিশুসহ পাঁচ জনকে। রাজ্যে একই পরিবারের পাঁচ জনের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা প্রথম।

জানা গেছে, ১৬ মার্চ দিল্লিতে এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছে তেহট্টের ওই পরিবার। সেখানে লন্ডন থেকে ফিরেছিলেন এক যুবক। তেহট্টের পাশাপাশি দিল্লিতেও ওই পরিবারের বাড়ি রয়েছে।

দিল্লিতে থাকেন লন্ডন থেকে ওই যুবকের এক বোন। যার ১১ বছরের সন্তান রয়েছে। আর এক বোন থাকে উত্তরাখণ্ডে। যার ৯ মাসের ও ৬ বছরের দুই শিশু রয়েছে।

দিল্লিতে অনুষ্ঠানেরই পর অসুস্থ হয়ে পড়েন লন্ডন ফেরত ওই যুবক। তাকে দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। করোনা টেস্টে তার কোভিড-১৯ ভাইরাস পাওয়া যায়। এরপরই ওই পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেয় দিল্লির স্বাস্থ্য দফতর। কিন্তু সেই নির্দেশের তোয়াক্কা না-করে তেহট্টে ফিরে আসে ওই পরিবারের সদস্যরা। আর তাতেই সর্বনাশ হয়।

দিল্লি থেকে ট্রেনে ২০ মার্চ কলকাতায় ফেরে তারা। পরের দিন তেহট্টে ফিরে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেয় পরিবারটি। ২৩ মার্চ সকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই পরিবারের ৪৭ বছরের এক মহিলা।

স্থানীয় হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য ভবনে যোগাযোগ করে তাকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে পাঠান। সেখানে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। আর বাকি ১৩ জনকে পাঠানো হয় হোম কোয়ারেন্টিনে।

বুধবার তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। শুক্রবারই ওই পরিবারের পাঁচ সদস্যের করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়।

শনিবার ওই পরিবারের সদস্যদের কলকাতায় এনে বেলেঘাটা আইডি বা রাজারহাটের চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের ক্যাম্পাসে ভর্তি করানো হতে পারে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অজয় চক্রবর্তী বলেন, দিল্লি থেকে বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের জানালে এটা হত না৷ কারণ তখনই আমরা ব্যবস্থা নিতাম। পরিবারটির দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় এটা ঘটেছে৷ চিকিৎসকরা পরিবারটিকে কোয়ারান্টিনে থাকার নির্দেশ দিলেও তারা তা শোননি। লুকিয়ে কলকাতায় চলে এসে নিজেদের বাড়িতে এসে আবারও একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এই পরিবারটির সংস্পর্শে কারা এসেছিলেন তাদের খোঁজ চালাচ্ছে প্রসাশন।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ