ঢাকা, রোববার 31 May 2020, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৭ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

কোভিড-১৯ রোগ নিরাময়ে আল কুরআনের নির্দেশনা

মুনির মাহদী:

রোগ সম্পর্কে কুরআনীয় ধারণা: 

যাবতীয় কল্যাণ আল্লাহর তরফ থেকে আর রোগ-বিমারী, অসুস্থতা-অকল্যাণ এগুলো মানুষের কর্মদ্বারা অর্জন। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন: অর্থাৎ- “আপনার যে কল্যাণ হয়, তা হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে আর আপনার যে অকল্যাণ হয়, সেটা হয় আপনার নিজের কারণে। (কুরআন, ৪:৭৯)। কুরআনের এই বক্তব্য থেকেই বিষয়টি অত্যান্ত পরিষ্কারভাবে বুঝা যায় যে, এই পৃথিবীতে মানুষের অন্যায়, অপকর্ম, পাপ ও পরস্পরের প্রতি জুলুম-নির্যাতনের কারণেই আমাদের উপর এই আপদ নেমে এসেছে। এটি মূলত আমাদেরই অর্জন।

কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন:

প্রথমেই আমি বলতে চাই যে, আমি ডাক্তার নই, আর না আমি কোন ব্যবস্থাপত্র লিখছি। শিরোনামে বর্ণিত বিষয়ে কুরআন কী বক্তব্য বর্ণনা করে, কেবল তা ব্যক্ত করাই আমার উদ্যেশ্য। 

কোয়ারেন্টাইন অর্থ - একটি নিদিষ্ট সময়ের জন্য পৃথক থাকা। যদি করো করোনা ভাইসের উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে তাকে জনবহুল এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে এবং ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে অন্তত নির্দিষ্ট কয়েক দিন আলাদা থাকতে বলা হয়। 

পক্ষান্তরে, আইসোলেশন হলো যখন কারো মধ্যে জীবানুর উপস্থিতির নিশ্চিতভাবে ধরা পড়বে কিংবা জীবানুর আক্রমণের ন্যায় অনুরূপ উপসর্গ দেখা দিবে, তখনো তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন কওে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয়। মূলকথা হলো কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় কারও উপসর্গ কিংবা অসুস্ততা দেখা দিলেই আইসোলেশনে নিয়ে গিয়ে তার চিকিৎসা করাতে হয়। 

কোয়ারেন্টাইন আর আইসোলেশন শব্দ দু’টো যে ভাষারই হোক কিংবা যে প্রেক্ষাপটেই এই দুটো শব্দের উৎপত্তি হোক না কেন, মুলত অসুস্থ ব্যক্তিকে নিবিড় তত্বাবধানের মাধ্যমে আশু আরোগ্য এবং এই অসুস্থ ব্যক্তির মাধ্যমে যেন রোগ অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত না হয় সে লক্ষেই এ শব্দের ব্যবহার এতে কোন সন্দেহ নেই। এখন কুরআনে এ ধরনের পরিস্থিতির অবতারন হয়েছে কিনা এটিই সম্মানিত পাঠকদের উদ্দেশ্যে সংক্ষেপে তুলে ধরছি। পবিত্র কুরআনে একজন সম্মানিত নবী আইয়ুব আ. এর রোগ-বিমার ও তার কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন হওয়া এবং আল্লাহর তরফ থেকে ব্যবস্থপত্রের মাধ্যমে তিনি সুস্থতা লাভ করেছিলেন, সেটিই আমি তুুুুুুলে ধরছি। 

আইয়ুব আ:-এর রোগ-বিমার:

কুরআন বর্ণনা করে- “এবং আইয়ুবের ব্যাপার, যখন সে তার প্রভুকে ডেকেছিল, নিশ্চয়ই আমাকে ব্যাধি স্পর্শ করেছে, আর তুমিইতো দয়াশীলদের মধ্যে পরম করুনাময়।” (কুরআন, ২১:৮৩)।

অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে এভাবে- “আর স্মরণ কর! আমাদের বান্দা আইয়ুবের কথা, যখন সে তার প্রভুকে ডেকেছিল, নিশ্চয়ই আমাকে শয়তান স্পর্শ করেছে, দুর্ভোগ ও কষ্ট দিয়ে।” (কুরআন, ৩৮:৪১)।

জবাবে আল্লাহ ব্যবস্থাপত্র দিলেন এভাবে- “তুমি তোমার পা দ্বারা দৌড়াও। এই হলো গোসলের ঠান্ডা পানি ও পানীয়। (কুরআন, ৩৮:৪২)। “তোমার হাতে একটা ডাল নাও এবং তা দিয়ে আঘাত কর। আর তুমি সংকল্প ত্যাগ করোনা। নিঃসন্দেহে আমরা তাকে পেয়েছিলাম অবিচল। কত উত্তম বান্দা। সে ছিল (আমার) অভিমূখী।”(কুরআন, ৩৮:৪৪)।

আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী আইয়ুবের জন্য প্রেরিত ব্যবস্থাপত্রে দু’ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির নির্দেশ পাওয়া যায়। তা হলো-বাহ্যিক প্রয়োগ ও সেবন। যথা প্রথমটি হলো- “এই হলো গোসলের ঠান্ডা পানি” এখানে আরবী ‘মুগতাসালুন’ এর অর্থ হলো ধৌত করা, পরিস্কার করা (এ্যন্টিসেপ্টিক) যা বাহ্যিক প্রয়োগ তথা দেহের বহিরাংশের ব্যবহার (এক্সটার্নাল ইউজ)-কে নির্দেশ করে। আর দ্বিতীয়টি হলো ‘পানীয়’ এখানে আরবী শব্দটি হলো ‘শারাবুন’ এর অর্থ হলো পানযোগ্য বা পান করার পানীয়, যা ঔষধ রূপে সেবন করাকে নির্দেশ করে।

আর দ্বিতীয় আয়াতে “তোমার হাতে একটা ডাল নাও এবং তা দিয়ে আঘাত কর। আর তুমি সংকল্প ত্যাগ করোনা। নিঃসন্দেহে আমরা তাকে পেয়েছিলাম অবিচল...। এখানে চিতিৎসামূলক নৃ-উদ্ভিদবিজ্ঞান (মেডিকেল এথনোবোটানী) যা, ভেসজ ঔষধ বিজ্ঞানের (ফার্মাকোগনসী) একটি শাখাকে নির্দেশ করে। 

অসুস্থ আইয়ুব আ. ছিলেন কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে-পরিবার-পরিজন থেকে এবং প্রতিবেশী ও সমাজ থেকে: 

আল্লাহ বলেন; অর্থাৎ-“অতঃপর আমরা তার ডাকে সাড়া দিলাম, তার দুঃখ কষ্ট দূরীভূত করে দিলাম, তাকে তার পরিবার-পরিজন ফিরিয়ে দিলাম এবং তাদের সঙ্গে তাদের মত আরো দিলাম আমাদের অনুগ্রহরূপে আর (এটি) ইবাদতকারীদের জন্য শিক্ষাগ্রহণের উপাদানস¦রূপ। (কুরআন, ২১:৮৪)। অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে এভাবে, অর্থাৎ-“আমরা তার পরিবার-পরিজনকে তার কাছে ফিরিয়ে দিলাম আর তাদের সঙ্গে তাদের মত অনুরূপ আরো দিলাম, আমাদের তরফ থেকে অনুগ্রহরূপে আর (এটি) বুদ্ধিমানদের জন্য শিক্ষাগ্রহণের উপাদানস¦রূপ। (কুরআন, ৩৮:৪৩)।

বিজ্ঞ পাঠকগণ একটু চিন্ত করুন, আল্লাহ তায়ালা এখানে নবী আইয়ুবকে ব্যবস্থাপত্র দিলেন, রোগ থেকে মুক্তি লাভের আরোগ্য পদ্ধতি বাতলিয়ে দিলেন, তাকে পূর্ণসুস্থতা দান করলেন, তারপর তার পরিবার-পরিজনকে তার কাছে ফিরিয়ে দিলেন আরো ফিরিয়ে দিলেন তাদেরই সঙ্গে এই পরিবার-পরিজনদের মত আরো অর্থাৎ আরো লোকজন, তারা হলেন সমাজের পাড়া-প্রতিবেশি। যাদেরকে নিয়ে তিনি বসবাস করতেন। কিন্তু তিনি অসুস্থ অবস্থায় পরিবার-পরিজন ও সমাজের পাড়া-প্রতিবেশিদের থেকে ছিলেন বিচ্ছিন্ন অর্থাৎ তিনি ছিলেন কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে। যদি তিনি কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে ন্ াথাকবেন, তাহলে সুস্থতা লাভ করার পর তার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করলেন কেন? অসুস্থকালীন সময়ে নবী আইয়ুবের পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকার বিষয়টি এটিও প্রমাণ করে যে, তিনি সংক্রমিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। নবী আইয়ুবের আল্লাহর দরবারে যে আরজি ছিল সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন “মাছ্ছানী” অর্থ “ আমাকে স্পর্শ করেছে।” যা কিনা সংক্রমিত রোগাক্রান্ত হওয়াকে প্রমাণ করে। আল্লাহ আরো ঘোষণা করলেন যে, নবী আইয়ুব আ. এর রোগ, আল্লাহর দরবারে আইয়ুবের ধরনা, আল্লাহর সাড়াদান, ব্যবস্থাপত্র এবং অসুস্থকালীন সময়ে নবী আইয়ুবের অবিচল থাকা, ্আল্লাহমূখী হওয়া আর সংক্রমন  ব্যধি হলে প্রয়োজনে কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে থাকাকে পরবর্তীতে বুদ্ধিমানদের (অনত্র ইবাদতকারীদের জন্য) শিক্ষাগ্রহণের উপাদানস¦রূপ রেখে দিয়েছেন। 

কুরআনে কোভিড-১৯ প্রসংগ:

বিশ্ব স¦াস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গের্রেইসাস সাংবাদিকদের বলেছেন করোনা ভাইরাসের নাম ‘কোভিড-১৯’। আমি এ নিবন্ধে কোভিড-১৯ এর বিস্তারিত বলতে প্রয়োজন বোধ করছিনা। কারণ বিভিন্ন মাধ্যমে সম্মানিত পাঠকগণ বর্তমান মহামারিতে রূপ নেয়া কোভিড-১৯ নিয়ে মোটামুটি ভালোই জেনে থাকবেন। আসুন মহাগ্রন্থ আল কুরআনে বর্ণিত বিষয়গুলিতে একটু চিন্তা করি আর মিলিয়ে নেই বর্তমান কোভিড-১৯ এর সাথে।  

আল্লাহ এরশাদ করেন: হে পোষাক পরিহিত! ওঠো এবং সতর্ক করো, আর তোমার প্রভুর শ্রেষ্ঠত¦ ঘোষণা করো। তোমার নিজের পোষাক-পরিচ্ছদ পবিত্র রাখো, যাবতীয় কদর্যতা (ময়লা-আবর্জনা) পরিহার করো, আর অনুগ্রহ করো না বেশী পাবার আশায়, তোমার প্রভুর জন্য অধ্যবসায় চালিয়ে যাও।...এটি মানবীয় কালাম মাত্র। খুব শীঘ্রই আমি ফেলব তাকে ‘সাকারে’, আর কী তোমাকে বোঝাবে ‘সাকার’ কি? তা কিছুই বাকি রাখে না, আর কিছুই ছেড়ে দেয় না। মানুষকে একবারে ঝলসে দিবে, তার উপরে রয়েছে ‘ঊনিশ’, আর আমরা ফিরিস্তাদের ছাড়া আগুনের প্রহরী করি নি, আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করেছে তাদেরও পরীক্ষারূপে ছাড়া আমরা এদের সংখ্যা নির্ধারণ করি নি, যেন যাদের গ্রন্থ দেওয়া হয়েছিল তাদের একিন (সুদৃঢ় প্রত্যয়) জন্মে, আর যারা বিশ্বাস করেছে তাদের বিশ্বাস যেন বৃদ্ধি হয়, আর যাদের গ্রন্থ দেওয়া হয়েছে, আর যারা বিশ্বাসী তারা যেন সন্দেহ না করে। আর যাদের অন্তরে ‘রোগ’ রয়েছে, আর যারা অবিশ্বাসী তারা যেন বলতে পারে- “এই রূপকের দ্বারা আল্লাহ কী বুঝাতে চেয়েছেন।” এই ভাবে আল্লাহ বিভ্রান্ত করেন যাকে ইচ্ছা করেন, এবং পথনির্দেশ দেন যাকে তিনি চান। আর তিনি ছাড়া আর কেউ তোমার প্রভুর বাহিনীকে সম্যক জান না। বস্তুত এটি মানবকূলের জন্য একটি সতর্কবার্তা ছাড়া আর কিছুই নয়। (কুরআন, ৭৪:১-৩১)।

এখানে সূরা আল মুদ্দাসসির এর ১-৩১ নং আয়াতের মূল বক্তব্য সংক্ষেপ করলে দ্বারায়- মানুষকে সাবধান করো, তোমার বাহ্যিক পরিচ্ছদকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখো, যাবতীয় অপরিচ্ছন্নতা ত্যাগ করো, এ কর্মে অবিচল থাকো। এর লম্বা আলোচনার পর তিনি এর কারণ উল্লেখ করে বলেন- তার উপরে রয়েছে (ঊনিশ) ‘১৯’, “তা কিছুই বাকি রাখে না, আর কিছুই ছেড়ে দেয় না” তার মানে এই (ঊনিশ) ‘১৯” সকল কিছুর মাধ্যমেই সংক্রমন করতে পারে, পারে বাহিত হতে (কমিউনিটি ট্রান্সমিশন)। আর এটি যাকে পেয়ে বসে তাকে একেবারে ঝলসে দিবে। বস্তুত এটি মানবকূলের জন্য একটি সতর্ক বার্তা। কিষের সেই সতর্কবার্তা? কিয়ামতের, মহাপ্রলয়ের। আল্লাহ অন্যত্র বলেন: “আর আমরা অবশ্যই বৃহত্তর শাস্তির আগে নিকটবর্তী শাস্তি থেকে তাদের আস্বাদন করাব, যেন তারা ফিরে আসে”। (কুরআন, ৩২:২১)

কোভিড-১৯ এর আক্রমনের স্থল:

অদ্যবধি এই কোভিড-১৯ বিষয়ে যতটুকু গবেষণা ও পর্যালোচনা হয়েছে, তা থেকে জানা যায় এই কোভিড-১৯ মূলত মানুষকে তার রেসপিরেটরি অর্গানে আক্রমণ করে। এ ছাড়াও জ্বর, কাশি, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ। এটি ফুসফুসেও আক্রমণ করে। আসুন কুরআনের বর্ণনা একটি চিন্তা করি। আল্লাহ এরশাদ করেন- 

“আমি তাকে পথ নির্দেশ দিয়েছি, হয় সে কৃতজ্ঞ  হবে, আর না হয় সে হবে অকৃতজ্ঞ। আমি অকৃতজ্ঞদের জন্য প্রস্তুত করেছি- সালাসিলা-শৃঙ্খল, আগলালান- বেড়ি ও অগ্নী। (সূরা দাহর ৭৬:৪)। সালাসিলা শব্দটি আরবী সিলসিলাতুন এর বহুবচন, সিলসিলাতুন অর্থ হলো-শিকল গলায় বাধার জন্য। আর সালাসিলা মানে শিকলসমুহ। আগলালান অর্থ হলো-বেড়িসমূহ, গলাবদ্ধ ইত্যাদি। অন্যত্র আল্লাহ বলেন: “আমরা পরিয়ে দিয়েছি তাদের গলায় বেড়িসমূহ (কুরআন, ৩৬:৮)।

অপরদিকে, পুন্যবানদের সম্পর্কে বলেন, “আমি সৎকর্মশীলদের পান করাব এমন পানীয় যার মিশ্রণ হবে কর্পূর।” (সূরা দাহর ৭৬:৫) এখানে পানীয়ের উল্ল্যেখ আছে. আর সাথে আছে কর্পুরের মিশ্রন।

সূরা দাহর (৭৬:৪) এর আয়াতে মূলত প্রথম পক্ষ, অবিশ^াসীদের যে শাস্তির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা মূলত রেসপিরেটরি অর্গান অর্থাৎ-শেকল, বেড়ি আর জলন্তআগুন, গলা, গলনালী ও কন্ঠনালী, গলাবদ্ধ, শ্বাস-প্রশ্বাস ও শ^াসনালী সংক্রান্ত। 

পক্ষান্তরে সৎকর্মশীল লোকেরা পানপাত্র থেকে কর্পূরের সংমিশ্রন পানীয় পান করবে। কর্পূরের সংমিশ্রন পানীয় এটি মূলত গলনালী, শ^াস-প্রশ্বাস ইত্যাদির যে যন্ত্রনা, তা থেকে মুক্ত থাকার ঘোষনা দিচ্ছে। আমরা জানি যে, কর্পুর পানিকে শীতল রাখে আর অন্যদিকে গলনালীর যাবতীয় ফাঙ্গাস, ঘা, ছত্রাক, ভাইরাস, ব্যাথা-বেদনা ও সর্দি-কাশিতে বেশ উপশম করে। 

অপরদিকে কুরআনে নাহল (মধু মক্ষিকা) নামীয় একটি সূরা রয়েছে। উক্ত সূরার ৬৯ নং আয়াতে আল্লাহ মধুকে মানুষের শিফা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ এরশাদ করেন: “উহার উদর হতে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয়; যাতে মানুষের জন্য রয়েছে আরোগ্য। অবশ্যই এতে রয়েছে নিদর্শন চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।” (কুরআন, ১৬:৬৯)।

আমি আগেই বলেছি আমি ডাক্তার নই। আর না আমি মেডিকেল ব্যবস্থাপত্র লিখছি। চিন্তাশীল পাঠকগণ বর্তমান কভিড-১৯ এর উপসর্গ সাথে কর্পূর ও মধুর উপসম ক্ষমতা মিলিয়ে নিতে পারেন, যা আজ থেকে প্রায় পনেরশত বছর পূর্বে মহাগ্রন্থ আল কুরআন বর্ণনা করেছে। বহিরাগত রাসয়নিক পদার্থের সাথে দেহের ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া কীভাবে স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক প্রাণরাসয়নিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে, এটা মূলত একজন ফার্মাকোলজিস্টই ভাল বলতে পারবেন। চিন্তাশীল পাঠকদের মধ্যে যারা ফার্মাকোপিয়া কিংবা ফার্মাকোলজির জ্ঞান রয়েছে, যারা মূলত ঔষধের ধর্ম ও মানব দেহের উপর ঔষধের ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া নিরূপণ করে থাকেন, তারা বর্তমান কোভিড-১৯ থেকে পরিত্রানের জন্য কর্পূর ও মধুর ব্যবহার নিয়ে ভাবতে পারেন। পারেন চিন্তা ও গবেষণা করতে। এটাই আমার আরজি।

কুরআন হলো শিফা-রোগ নিরাময়:

“হে মানুষ! তোমাদের প্রতি, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এসেছে মাওইজাহ-উপদেশ (ওয়াজ) এবং তোমাদের অন্তরে যা আছে, তার আরোগ্য-নিরাময় বিশ্বাসীদের জন্য পথ নির্দেশ ও রহমত।” (কুরআন, ১০:৫৭)।

“কুরআন শিফা-আরোগ্য ও বিশ্বাসীদের জন্য রহমত আর জালিমদের জন্য ক্ষতি বৃদ্ধি করে।” (কুরআন, ১৭:৮২)।

যাবতীয় রোগ-ব্যধি, কষ্ট ও মহামারি থেকে পরিত্রাণের কুরআনীয় দোয়া:

“আল্লাহ যদি তোমাকে দুর্ভোগে ফেলেন, তবে তিনি ছাড়া কেউ তোমাকে তা থেকে মুক্ত করতে পারবেনা। আর তিনি যদি তোমাকে কল্যাণের ভাগী করে দেন, তবে তিনিই প্রতিটি জিনিসের ওপর তার ক্ষমতা প্রয়োগে সক্ষম।” (কুরআন, ৬:১৭)। আজ আমাদের সমাজে ইসলাম ধর্মের নামে বিভিন্ন তরিকার দোয়া, ওয়াজিফার মাধ্যমে রোগ-বালাই ও মহামারি থেকে পরিত্রানের রসম-রেওয়াজ চালু রয়েছে। যা অধিকাংশই কুরআন বহির্ভুত ও মানুষের মনগড়া এবং বানানো। আল্লাহর নিকট রোগবালাই, মহামারি ইত্যাকার যে কোন সমস্যার আবেদন জানানোর জন্য গৃহীত (মকবুল) দোয়া কুরআনে উল্লেখ রয়েছে। নিম্নে এমনই কয়েকটি মকবুল দোয়া তুলে ধরলাম যেন আমরা আল্লাহর দরবারে দোয়ার ক্ষেত্রে কেবল কুরআনের ধারস্ত হয়। 

১. রাব্বানা আকশিফ আন্নাল আজাবা ইন্না মু‘মিনুন। অর্থাৎ হে আমাদের প্রভূ! আমাদের থেকে কষ্ট দূরিভূত করুন, নিশ্চয়ই আমরা বিশ্বাসী। (কুরআন, ৪৪:১২)।

২. (ওয়া ইজা মারিদতু ফাহুয়া ইয়াশফিন) অর্থাৎ “যখন আমি অসুস্থ হই, তিনিই আমাকে সুস্থ্য করে তুলেন।” (সূরা কুরআন. ২৬:৮০)।

৩. আন্নি মাস্সানিয়া আদ্দুররু ওয়া আনতা আরহামুর রাহিমিন। অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমাকে ব্যাধি স্পর্শ করেছে, আর তুমিই সর্ব শ্রেষ্ঠ দয়াবান। (কুরআন, ২১:৮৩)।

৪. আন্নি মাগলুবুন ফানতাসির। আর্থাৎ আমি তো অসহায়, অতএব তুমি প্রতিবিধান কর। (কুরআন, ৫৪:১০)।

৫. ওয়া উফাওবিদুু আমরী ইলাল্লা-হি ইন্নাল্লাহ বাসিরুন বিল ইবাদ। আর্থাৎ- আমি আমার ব্যাপার আল্লাহতে অর্পণ করছি, আল্লাহ তার বান্দাদের ব্যাপারে সবিশেষ দৃষ্টি রাখেন। (কুরআন, ৪০:৪৪)।

-------০--------

 মুনির মাহদী: ইসলামিক ব্যাংকার ও কুরআন গবেষক। munir.emahdi@gmail.com

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ