বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০
Online Edition

রাজশাহী মেডিকেলে করোনা সন্দেহে আরেক রোগির মৃত্যু

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: করোনা ভাইরাস সনাক্তের ব্যবস্থা না থাকায় বিভাগীয় শহর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মারা গেছে আরেক সন্দেহযুক্ত রোগী।রোগীর নাম আল-আমিন (২২)।রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে তার মৃত্যু হয়।আল-আমিন নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের অলংকার দীঘি গ্রামের মকলেছুর রহমানের ছেলে।

জানা গেছে, মৃতদেহ গ্রামে নিয়ে আসলে করোনা সন্দেহে আল-আমিনের মরদেহের কাছে কেউ যাচ্ছে না। কিন্তু সে করোনা আক্রান্ত ছিল কি-না সেই পরীক্ষা কোনও হাসপাতাল করেনি এবং কোনও নমুনাও সংগ্রহ করা হয়নি।

জানা গেছে আল-আমিন ঢাকায় কাজ করতো।ঢাকায় থাকতেই গত শুক্রবার তার প্রচণ্ড জ্বর ও কাশি হলে সে রাণীনগরে তার গ্রামের বাড়ীতে চলে আসে।কিন্তু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে তাকে বাড়িতে উঠতে দেয়নি গ্রামবাসী।এরপর অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে আল আমিনের বাবা তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে গেলেও কোথায় তাকে রাখা হয়নি এবং পরীক্ষাও করা হয়নি।অবশেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও সেখানেও কোন ধরনের পরীক্ষা-নীরিক্ষা ও অবহেলায় শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর অভিভাবক।

এ বিষয়ে আল আমিনের বাবা মকলেছুর রহমান মুঠোফোনে জানান, আলআমিন দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় একটি কাপড়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতো। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে আল-আমিন গায়ে প্রচণ্ড জ্বর আর কাশি নিয়ে খুব অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা থেকে নওগাঁতে এসে পৌঁছে। এরপর শনিবার সকালে বাড়িতে আসার সময় সে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে সন্দেহে স্থানীয় মেম্বার ও গ্রামের কতিপয় লোকজন তাকে গ্রামে উঠতে দেয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে সকালেই এলাকার ভেটি স্ট্যান্ড থেকে চিকিৎসার জন্য আদমদীঘি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে তার কোনও চিকিৎসা না করেই ফিরিয়ে দেয় সেখানকার চিকিৎসকরা।এরপর আবারও ছেলেকে ফিরে নিয়ে ভেটি কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়ে আসি। সেখানে চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থা না করেই বারান্দায় আল আমিনকে মুর্মূষ অবস্থায় রাখা হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে পরে তার সহযোগিতায় চিকিৎসার জন্য প্রথমে রাণীনগর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। সেখানে করোনা ভাইরাস সন্দেহে চিকিৎসকরা দেখেই হাতে কাগজ ধরিয়ে দিয়ে নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠায়।

নওগাঁ হাসপাতালে পৌঁছার পর সেখানেও আল-আমিনকে ভালোভাবে না দেখে কোনও চিকিৎসা না দিয়েই রাজশাহী নিয়ে যান বলে হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দেয়। এরপর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেও কোনও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই কিছু ওষুধ ও ইনজেকশন লিখে দিয়ে চলে যান চিকিৎসকরা। সেগুলো দিয়েও আমার ছেলের শরীরের জ্বর কোন ভাবেই কমে নাই। এরপর কোনও চিকিৎসক আমার ছেলের আশেপাশে আর আসে নাই। অবশেষে আমার ছেলে করোনাভাইরাস সন্দেহে মারা গেলো।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু বলেন, ছেলেটা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এমন খবর পাওয়ার পর তার পরিবারকে বলেছি চিকিৎসকের প্রতিবেদন নিয়ে গ্রামে আসতে। যদি চিকিৎসকরা বলেন আল-আমিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নয় তাহলে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। আর যদি সে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলে চিকিৎসা করান। গ্রামে আসার দরকার নেই। গ্রামবাসী ও আশেপাশের মানুষের কথা ভেবেই আল-আমিনকে গ্রামে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় নাই।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খাঁন (অংকুর) বলেন, আল-আমিনের শরীরে ১শত ডিগ্রি সেলসিয়াস জ্বর ছিল। তাকে যখন আমরা হাসপাতালে পাই তখন সে অবচেতন অবস্থায় ছিল। যেহেতু তার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল সেহেতু আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-মামুন বলেন, মৃত আল-আমিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি-না তা নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার কথা বলবো। তবে সে হয়তো বা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়নি।এছাড়াও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আল-আমিনের দাফন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁ সিভিল সার্জন ডা. আ: ম: আখতারুজ্জামান বলেন যেহেতু নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালে করোনাভাইরাস পরীক্ষার কোনও ব্যবস্থা নেই সেহেতু আমরা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করি।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ মার্চ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক নারী করোনার লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়ে চারদিন অবস্থান করলেও তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিনা তা সনাক্তের কোন পরীক্ষা করাতে পারেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।অবশেষ গত ২৪ মার্চ রাতে তিনি মারা যান।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ