ঢাকা,মঙ্গলবার 25 June 2024, ১১ আষাঢ় ১৪৩১, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৪৫ হিজরী
Online Edition

মার্কিন ভিসা নীতিতে ‘জনদাবিরই প্রতিধ্বনি’: ফখরুল

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতিতে বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিরই প্রতিধ্বনি’ এসেছে দাবি করে আবারও সরকারের পদত্যাগ চেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্যভাবে আয়োজন করার সকল প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য এবং একই সাথে ভোট কারচুপি, ভোটারদের ভয় দেখানো, জনগণের শান্তিপূর্ন সমাবেশ করার স্বাধীনতা ও অধিকার চর্চাকে সহিংসভাবে দমনের যে কোনো নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরকার যে অবস্থান নিয়েছে, তা বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিরই সুস্পষ্ট প্রতিধ্বনি।

“বিএনপি মনে করে, মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য বিএনপিসহ বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ দীর্ঘদিন যাবত যে দাবি জানিয়ে আসছিল, পরিবর্তিত মার্কিন ভিসা নীতিতে তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে।”

সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা আবারও দাবি করছি, এই অনির্বাচিত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশে এবং বিদেশে তার প্রত্যাখাত অবস্থাকে অনুধাবন করে অবিলম্বে পদত্যাগ করবে এবং ভোটারবিহীন জাতীয় সংসদ বাতিল ঘোষণা করবে।

“নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করে একটি অবাধ ও সুষ্ঠূ নির্বাচনের ব্যবস্থা করাই দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সকল মহলের দাবি ও প্রত্যাশা। চলমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক তথা জাতীয় সংকট থেকে মুক্তিলাভের এটাই একমাত্র পথ।”

এই দাবি আদায়ে ‘লাগাতারভাবে সমর্থন’ দেওয়ার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আন্দোলনে অনড় ও অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।

কোভিডে আক্রান্ত হয়ে গত ২৩ মে থেকে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিতসা নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি ঘোষণার পর বিএনপি মহাসচিবের পক্ষে দলের সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর স্বাক্ষরে ওই বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

বুধবার বাংলাদেশের জন্য নতুন ওই ভিসা নীতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের এই নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হবে না।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে ব্লিংকেন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের স্বার্থেই’ তাদের এ পদক্ষেপ। বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে যারা এগিয়ে নিতে চায়, তাদের সবাইকে সমর্থন দিতে এই নীতি ঘোষণা করেছেন তিনি।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নীতিকে ইতিবাচকভাবে দেখার কথা বলছেন। তাদের ভাষ্য, এই নীতি কেবল সরকার নয়, বিরোধী দলের ওপরও বর্তাবে, ফলে বিএনপিকে তাদের ‘জ্বালাও-পোড়াও’ রাজনীতির বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

নতুন নীতি ঘোষণার পরদিন বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস।

পরে দূতাবাসের এক টুইটে বলা হয়, “আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে সমর্থন করি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে এমন ব্যক্তিদের ভিসা সীমিত করার এই নতুন ভিসা নীতি সবার জন্য প্রযোজ্য।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ