ঢাকা,মঙ্গলবার 25 June 2024, ১১ আষাঢ় ১৪৩১, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৪৫ হিজরী
Online Edition

শস্য ও সার রপ্তানিতে বাধা দিলে জুলাইয়েই শস্য চুক্তির ইতি: রাশিয়া

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: কৃষ্ণ সাগর দিয়ে শস্য রপ্তানিতে ইউক্রেইনের সঙ্গে গত বছর যে চুক্তি হয়েছিল, রাশিয়ার শস্য ও সার রপ্তানিতে বাধা তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি না হলে ১৭ জুলাইয়ের পর তাতে ইতি টানার ইঙ্গিত দিয়েছে মস্কো।

জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় গত বছরের জুলাইয়ে ওই চুক্তি হয়েছিল, যার ফলে যুদ্ধের মধ্যেও কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দর দিয়ে ইউক্রেইনের খাদ্য শস্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছে।

মার্চ থেকেই রাশিয়া দাবি না মানলে চুক্তি থেকে সরে আসার হুমকি দিয়ে আসছিল; এরপরও তারা দিনকয়েক আগে চুক্তিটি ফের তিন মাসের জন্য অনুমোদন করে।

এই সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে জুলাইয়ের পর আর চুক্তিটি অনুমোদন করা হবে না বলে বৃহস্পতিবার তারা ফের হুমকি দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গেল বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেইনে সৈন্য পাঠানোর পর বিশ্বজুড়ে খাদ্য শস্য সরবরাহের চেইন গভীর সংকটে পড়ে; কৃষ্ণ সাগর দিয়ে রপ্তানির এই চুক্তি সেই সংকট খানিকটা প্রশমনে ভূমিকা রেখেছে।

চুক্তিটি বলবৎ রাখতে মস্কো এ বছরের মার্চ থেকেই দুটো শর্তের কথা জোরেসোরে বলছে। এগুলো হচ্ছে- পাইপলাইনের মাধ্যমে ইউক্রেইনের কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দর পিভদেনিতে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় শুরু এবং রাশিয়ার কৃষি ব্যাংক রোসেলখোজব্যাংককে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত আন্তঃব্যাংক লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম সুইফটের সঙ্গে ফের সংযুক্ত করা।

“যদি রোসেলখোজব্যাংক সুইফটের সঙ্গে সংযুক্ত না হয় এবং আমাদের কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্যান্য যেসব ‘পদ্ধতিগত’ সমস্যা রয়ে গেছে সেগুলোর কোনো সুরাহা না হয়, তাহলে ‘কৃষ্ণ সাগর দিয়ে রপ্তানির উদ্যোগকেও’ বিকল্প পথ দেখতে হবে,” বৃহস্পতিবার দেওয়া বিবৃতিতে বলেছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রাশিয়া চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলে ইউক্রেইনের হাতে স্থলপথে ইউরোপ দিয়ে রপ্তানির পথ খোলা আছে, কিন্তু তাতে খরচ বেশি পড়বে এবং বিশ্ববাজারে দামেও প্রভাব পড়বে।

ইউক্রেইনে রাশিয়ার অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত বছরের জুনে রোসেলখোজব্যাংককে সুইফট থেকে বাদ দিয়ে দেয়। রুশ ব্যাংকটিকে প্ল্যাটফর্মে ফেরানোর বিষয়টি ইইউ বিবেচনাতে করছে না বলে জানিয়েছেন জোটের এক মুখপাত্র।

ইউক্রেইনকে কৃষ্ণ সাগর দিয়ে শস্য রপ্তানির সুযোগ দিতে গত বছরের জুলাইতে জাতিসংঘ মস্কোর সঙ্গেও তিন বছরের একটি চুক্তি করে, যাতে রাশিয়ার খাদ্য পণ্য ও সার রপ্তানিতে বাধা তুলে নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছিল।

ওই চুক্তির আওতায় এবং রোসেলখোজব্যাংক সুইফটে না থাকায় মার্কিন ব্যাংক জেপিমরগান চেজ অ্যান্ড কো রাশিয়ার কিছু শস্য রপ্তানির লেনদেন করেছিল এবং এ ধরনের আরও কয়েক ডজন লেনদেন তারা করতে যাচ্ছে বলে গত মাসে একাধিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল।

দীর্ঘমেয়াদে এই প্রক্রিয়া উপযুক্ত নয় বলে রাশিয়া এখন জেপিমরগান দিয়ে লেনদেনে অনীহা দেখাচ্ছে।

বুধবার জাতিসংঘের বাণিজ্য বিষয়ক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, তারা আফ্রিকায় রাশিয়ার শস্য ও সার রপ্তানির লেনদেনে সহায়তায় একটি প্ল্যাটফর্ম সৃষ্টিতে আফ্রিকান এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করছেন।

কৃষ্ণ সাগর দিয়ে শস্য রপ্তানি চুক্তিতে নিরাপদে অ্যামোনিয়া রপ্তানির সুযোগও রাখা হয়েছে। কিন্তু তোগলিয়াতি থেকে ইউক্রেইনের পিভদেনিতে অ্যামোনিয়া পাঠানোর পাইপলাইন এখন পর্যন্ত কিইভ ‍পুনরায় চালু করেনি। ওই পাইপলাইন দিয়ে রাশিয়া বছরে ২ লাখ টন পর্যন্ত অ্যামোনিয়া পাঠাতে পারে।

ইউক্রেইন সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা রাশিয়াকে অ্যামোনিয়া রপ্তানিতে তাদের ‍ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমোদন দেবেন যদি মস্কো কৃষ্ণ সাগর শস্য চুক্তিতে আরও রপ্তানি পণ্য এবং আরও ইউক্রেইনীয় বন্দর যুক্ত করার সুযোগ দেয়।

রোসেলখোজব্যাংককে সুইফটে ফিরিয়ে নেওয়া বা অ্যামোনিয়া রপ্তানির পাইপলাইন পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয় ছাড়াও রাশিয়ার আরও কয়েকটি শর্ত আছে। এগুলো হল- রাশিয়াকে কৃষি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের সুযোগ করে দেওয়া, বীমা এবং বিভিন্ন বন্দরে রুশ জাহাজ ও কার্গোর প্রবেশাধিকারে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া, রুশ সার কোম্পানিগুলোর ব্যাংক হিসাব ও তাদের লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ