শুক্রবার ০১ ডিসেম্বর ২০২৩
Online Edition

রায়হানের কুরবানি 

আবরার নাঈম 

ঈদুল আযহা অর্থাৎ কুরবানি ঈদের বাকি আছে মাত্র কয়েকদিন। কুরবানির পশু কিনতে হাটে যাবেন রায়হানের বাবা। এদিকে রায়হানেরও খুব ইচ্ছে বাবার সাথে হাটে যাবে। বাবা সোজাসাপটা না করে দিলেন। তাকে নিবেন না। তাই আজ রায়হানের ভীষণ মন খারাপ। কারো সাথে কথা বলছে না। সকাল থেকে খাবারও খাচ্ছে না রাগ করে। এটা অবশ্য নতুন নয়! রায়হানের অভ্যাস। রাগ উঠলেই খানাপিনা বন্ধ করে দেয়। অবশেষে মায়ের পীড়াপীড়িতে হাটে নিয়ে যেতে সম্মত হলেন রায়হানের বাবা।

বিকেল পাঁচট বাজে। বাসা থেকে বের হলো দু'জন। রাস্তায় গিয়ে রিকশা নিলো। যাবে পশুর হাটে। রিকশায় বসে রায়হান তার বাবাকে বেশ কিছু প্রশ্ন করলো। আচ্ছা বাবা! কুরবানি কেন করি? কোথা থেকে এলো এই কুরবানি? রায়হানের প্রশ্নে বাবা কিছুটা বিরক্তিবোধ করলেও আবার স্বাভাবিক হয়ে তার প্রশ্নের উত্তর দিলেন হাসি মুখে। বাবা বললেন-রায়হান, আমাদের জাতির পিতা কে জানো? রায়হান: হ্যাঁ বাবা। তিনি হলেন হযরত ইবরাহিম আলাইহিসসালাম।

বাবা: হ্যাঁ, রায়হান। ঠিক বলছ তুমি। তিনি ছিলেন খলিলুল্লাহ বা আল্লাহর বন্ধু। তাঁর এক পুত্র সন্তান ছিল ইসমাঈল আলাইহিসসালাম। খুব আদরের সন্তান। আস্তে আস্তে বড় হতে থাকেন সেই সন্তান। 

একদিন ইবরাহিম আলাইহিসসালাম স্বপ্নে দেখলেন যে, তিনি তার পুত্র সন্তানকে জবাই করছেন। তিনি তার সন্তানকে বললেন, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে জবাই করছি! এখন তোমার মতামত কী? সন্তান বলল, বাবা! আপনি যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছেন তা সম্পন্ন করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মাঝে পাবেন। সন্তানের কথামতো তাকে নিয়ে গেলেন তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে। জমিনে শুইয়ে গলায় ছুরি চালালেন। কিন্তু গলা কাটলো না। আল্লাহ তাআলা দেখলেন ইবরাহিম আলাইহিসসালাম তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে জান্নাত থেকে দুম্বা পাঠালেন। আর গায়েব থেকে আওয়াজ দিয়ে বললেন, হে ইবরাহিম! তুমি তোমার স্বপ্ন সত্য বাস্তবায়িত করে দেখিয়েছো।

সেই দিনের পিতা-পুত্রের এই দৃশ্যটি আল্লাহর নিকট খুব ভালো লেগেছিল। তাই আল্লাহ তাআলা তার এই অনুপম ত্যাগের নমুনাটি মানুষের মাঝে অবিস্মরণীয় করে রাখলেন। সেই থেকে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হুকুম দিলেন, যেন আমরা এই দিনে নিজেদের হালাল উপার্জনের দ্বারা কোন পশু জবাই করে তাকে স্মরণ করি। এবার বুঝলে তো কেন কুরবানি করি, আর কোথা থেকে এলো। 

গল্প করতে করতে এতক্ষণে বাজারে চলে এলো রায়হান ও তার বাবা। বাজার থেকে পছন্দমতো কুরবানির পশু কিনে রাত দশটায় বাসায় ফিরলেন তারা। রায়হানের এতোদিনের মনের আশা পূর্ণ হলো।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ