শনিবার ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩
Online Edition

জামায়াতকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এক বৈঠক গতকাল সোমবার জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ১৯ নবেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন মামলায় যে ন্যায়ভ্রষ্ট রায় প্রদান করেছেন তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। 

গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ দেশের সর্ববৃহৎ ইসলামী দল। বিগত ১১টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে যে কয়টি অংশগ্রহণমূলক ছিল তাতে জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণ করেছে এবং জামায়াতের বিজয়ী প্রার্থীগণ সংসদের ভেতরে-বাইরে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছেন। ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতের ২ জন মন্ত্রী সততা, যোগ্যতা ও দক্ষতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গিয়েছেন, তা দেশের ইতিহাসে বিরল। কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার বিধানকে আইনে পরিণত করার জন্য ১৯৮৩ সাল থেকে জামায়াত আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে সাথে নিয়ে আন্দোলন করে এবং ১৯৯৪-১৯৯৬ সালে অন্যান্য দলকে সাথে নিয়ে কেয়ারটেকার সরকার ইস্যুতে আন্দোলন করে সংবিধানের ১৩-তম সংশোধনী পাসের মাধ্যমে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থাকে আইনে পরিণত করতে সক্ষম হয়। ফলে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার উদ্দেশ্যেই ২০১১ সালে সংবিধানের ১৩-তম সংশোধনী বাতিল করে ১৫-তম সংশোধনী পাস করে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আইন বাতিল করে দেশকে এক মহাসংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। যে কারণে জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো আবার কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবীতে আন্দোলন করছে। এ দাবী আদায় করার জন্য গোটা জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। জামায়াতকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখার সরকারি কৌশল হিসেবেই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জামায়াতের নিবন্ধন সংক্রান্ত মামলাটি শুনানির সুযোগ না দিয়ে খারিজ করে দেয়া হয়েছে। 

প্রস্তাবে আরো বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমুখী দল। জামায়াত নির্বাচনে সব সময়ই অংশগ্রহণ করে থাকে। বিগত বছরগুলোতে জামায়াত উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জনগণের বিপুল সমর্থন লাভ করে অনেকগুলো উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেছে। জামায়াতে ইসলামী সব সময়ই অন্যায়, অসত্য ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে। 

প্রস্তাবে আরো বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবীগণ জামায়াতের নিবন্ধন মামলার শুনানির জন্য পর্যাপ্ত সময়ের জন্য আদালতে আবেদন করেছিল। কিন্তু তা মঞ্জুর না করে আদালত ১৯ নবেম্বর হরতালের দিন মামলার শুনানির তারিখ ধার্য করেছিল। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীগণ সাধারণত হরতালের দিন আদালতে যান না। যে কারণে জামায়াতের সিনিয়র আইনজীবীগণ মামলার শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। এ অবস্থায় তড়িঘড়ি করে জামায়াতের নিবন্ধন সংক্রান্ত মামলায় একটি ন্যায়ভ্রষ্ট রায় প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা অভিমত ব্যক্ত করছে যে, আপিল বিভাগে বিচারাধীন নিবন্ধন মামলাটি শুনানির সুযোগ না দিয়ে খারিজ করে দেয়ায় তা ন্যায় বিচারের মানদন্ডে গ্রহণযোগ্য নয়। 

এ ন্যায়ভ্রষ্ট রায় আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার সরকারি ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। এ রায়ের মাধ্যমে জামায়াতকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ রায়ের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে জামায়াতকে বঞ্চিত ও নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকার পতনের একদফা আন্দোলন আরো জোরদার করার জন্য জামায়াতের মজলিসে শূরা দলমত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ