রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪
Online Edition

ছাত্রলীগ ছাড়া সব নিয়োগ বাতিল করতে রেজিস্ট্রারকে শাসালেন নেতারা

সংগ্রাম অনলাইন: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রেজিস্ট্রারকে ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি সবার নিয়োগ বাতিল করতে চাপ প্রয়োগ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার (২০ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমদকে তার কক্ষে ঢুকে শাসান ছাত্রলীগের নেতারা। এ সময় ছাত্রলীগের এক কর্মী রেজিস্ট্রারের দিকে তেড়ে যান।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এমন একটি ভিডিও।

এতে দেখা যায় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী বাকবিতণ্ডায় জড়ান রেজিস্ট্রারের সঙ্গে।

ভিডিওতে দেখা যায়, শাখা ছাত্রলীগের উপগ্রুপ বিজয় একাংশের কর্মী ওয়াহিদুল ইসলাম রেজিস্ট্রার নুর আহমদের দিকে তেড়ে যান এবং আঙুল উঁচিয়ে রেজিস্ট্রারকে উদ্দেশ্য বলছেন, “ছাত্রলীগ কর্মীদের বাইরে সব নিয়োগ ক্যান্সেল করতে হবে। এখনো পিছনে বসে আছে ও (সদ্য নিয়োগ পাওয়া এক কর্মচারী)। ও ছাত্রলীগ করে না। তবুও ওরে চাকরি দিয়েছেন। ওর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ খাইছে ভিসি ম্যাম।  

মনোবিজ্ঞান বিভাগে সদ্য কম্পিউটার ল্যাব সহকারী হিসেবে ছাত্রলীগের বাইরে নিয়োগপ্রাপ্ত ওই ককর্মচারিকে রেজিস্ট্রার অফিসে মারধরও করেন তারা।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, টেবিল চাপড়িয়ে একই কথা বলছেন একই গ্রুপের নেতা শাখা ছাত্রলীগের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোরশেদুল আলম রিফাত।  

তিনি রেজিস্ট্রারকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, ছাত্রলীগের বাইরের নিয়োগ ক্যান্সেল। ছাত্রলীগের পোলারে নিয়োগ দিলে সমস্যা নাই। ছাত্রলীগের বাইরে যেগুলা, ওইগুলা ক্যান্সেল। ছাত্রলীগের পোলাপাইনের চাকরি লওয়ার অধিকার আছে। বাইরের পোলাপাইনের কী অধিকার! ছাত্রলীগের বাইরে সব ক্যান্সেল।  

তার সঙ্গে এ সময় উপস্থিত সব ছাত্রলীগ নেতাকর্মী রেজিস্ট্রারকে শাসাতে থাকেন। আর ভিসিকে এসব নিয়োগের ব্যাপারে বলার জন্য তাদের পক্ষে রেজিস্ট্রারকে বোঝাতে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. সুমন মামুন, সাধারণ সম্পাদক মো. মনসুর আলী।

শাখা ছাত্রলীগের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এলাকার গ্রুপের নেতা মইনুল ইসলাম রাসেল, ভার্সিটি এক্সপ্রেসের (ভিএক্স) আল-আমিন শান্ত, রায়হান ও আশিব তানিম। এ সময় রেজিস্ট্রার অফিসে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নাজেমুল আলম মুরাদ, মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন, আবদুল মান্নান ও শঙ্কর বড়ুয়া।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কেএম নূর আহমেদ বলেন, ‘আমার অফিসে এসে তারা এ রকম আচরণ করেছে। এটি আমার জন্য অপমানজনক! আমি তো তাদের নিয়োগ দিতে পারব না। নিয়োগ দেবেন ভিসি। তবুও তারা আমার এখানে এসে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে।’

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ