রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪
Online Edition

ব্যাংকখাতে অনিয়ম-লুটপাট! 

সীমাহীন অনিয়ম ও লুটপাটের ফলে দেশের ব্যাংকখাত ভালো নেই। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গ্রিনের চেয়ে রেড ও ইয়েলো বাতি জ্বলা ব্যাংকের সংখ্যাই বেশি। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সংক্রান্ত একটি গোপন রিপোর্ট প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে। খবরে প্রকাশ, দেশের ৯টি ব্যাংক রেড জোনে, ২৯টি ব্যাংক ইয়েলো জোনে এবং ১৬টি ব্যাংক গ্রিন জোনে। গণমাধ্যমে খবরটি প্রকাশের পর দুই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশে রিপোর্টারদের বাধা দেয়া হয়। মুখোমুখি হতে হয় নানা জেরার। রিপোর্টটির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ভিন্ন ব্যাখ্যাও দেয়। ব্যাংক পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ব্যাংকস-এর পক্ষ থেকে রিপোর্টটিকে বাস্তবতাবিবর্জিত বলে দাবি করা হয়েছে।

গোপন রিপোর্টটি বাস্তব নাকি অবাস্তব, সে-বিতর্কে যাওয়া অবশ্য বাতুলতা। উল্লেখ্য, ব্যাংক পরিচালকদের কেউ কেউ ঋণ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ছেন। রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের সুপারিশ ছাড়াও ব্যাংকসংশ্লিষ্টদের ইন্ধনে যাচাই-বাছাই ছাড়া অবাধে ঋণ প্রদানের কারণে খেলাপি উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। ব্যাংক বাঁচাতে দুর্বলকে সবলের সঙ্গে একীভূতকরণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশের ব্যাংকখাত যে ভালো নেই, এটা কম-বেশি এখন সবাই অবগত। যারা বিষয়টি অস্বীকার করছেন, তারাও জানেন এ খাত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। ৮ থেকে ৯ শতাংশ খেলাপি ঋণের যে-হিসাব প্রচার করা হচ্ছে, প্রকৃত চিত্র তার চেয়েও খারাপ। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকখাতকে ভালো করতে হলে পারস্পরিক দোষারোপ ও লুকোচুরি না করে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে। এ জন্য সবার আগে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি।

পরিতাপের বিষয়, ইতোপূর্বে ব্যাংকখাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বারবার বলা সত্ত্বেও বাস্তবে এর কোনও প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং ব্যাংকগুলোর নিয়মনীতি পরিপালনে ঘাটতি, ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি, পরিচালনা বোর্ডের দায়িত্বহীনতা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃঢ় অবস্থানের অভাবে আর্থিকখাতের পরিস্থিতি ক্রমেই নাজুক হয়েছে। এ খাতে এখন সবচেয়ে জরুরি হলো সুশাসন ফেরানো। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে ব্যাংকের দুর্নীতি রোধ অসম্ভব। ঋণ ব্যবস্থাপনায়ও থাকতে হবে শৃঙ্খলা। একদিকে খেলাপি ঋণ আদায়ে নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ; অন্যদিকে নতুন ঋণ দেয়ার বিষয়েও থাকতে হবে বাড়তি সতর্কতা। ঋণ ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকের পরিচালকদের অনৈতিক হস্তক্ষেপও বন্ধ করতে হবে। এক কথায়, ব্যাংকখাত নিয়ে যেসব নেতিবাচক ধারণা প্রচলিত আছে, সেগুলো পরিহার করে এ খাতের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের মাধ্যমে এ খাতকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনা হলে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি তা দেশের অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনবে। গ্রাহকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যাংকখাতের সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা মুখ থুবড়ে পড়বে বৈকি!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ