মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪
Online Edition

কবিতা

সোনার দেশ

সাগর আহমেদ 

বইছে বাতাস তরতরিয়ে আমার সবুজ গাঁয়

ভাটির সুরে গান ধরেছে বাদাম তোলা নায়।

 

স্নিগ্ধ নরম ভোরের হাওয়া পাখির কলতান

সবুজ শ্যামল স্বর্গপুরী শান্তি সুখের গান। 

 

পাখির ছানা মেলে ডানা নীল আকাশে উড়ে

লাঙল টেনে ব্যস্ত চাষি শিশির ঝরা ভোরে। 

 

প্রজাপতির ওড়াউড়ি সরষে ফুলের বনে 

নতুন ধানে ভরবে গোলা স্বপ্ন চাষির মনে

 

গায়ের বধূ কলশি ভরে নদীর ঘাটে এসে

পদ্মদিঘি বনবনানী আমার সোনার দেশে।

 

স্মৃতির রোজা

আতিফ আবু বকর 

মনে পড়ে কৈশোরের

আরো আগে শিশুতোষ দিন

সাহরিতে জেগে ওঠা

শীত শীত খুশি খুশি ঋণ।

 

মসজিদে ইফতারে

দলবেঁধে সারিসারি মুখ

প্লেট ভরা তোবারকে

আজানের দিকে উৎসুক। 

 

কার হলো কয়টা যে

রোজা আজ কার গেলো কত

ঈদ বুঝি চলে এলো 

এই নিয়ে কত কথা হত!

 

তারাবীর মজা আহা

যেইদিন পড়তাম বিশ

জুটে যেতো সেই দিন

মুরুব্বির বিশেষ আশিস।

 

মানা

গিয়াস হায়দার

একরাশ ফুল আর

একঝাঁক পাখি

দেখে দেখে মন-প্রাণ

জুড়ে দুটি আঁখি।

 

উড়ে উড়ে ছুটে চলে

পাখি বহুদূর

দলেবলে গান গায়

ধরে তার সুর।

 

গাছে গাছে বাসা বাঁধে

ফোটে তার ছানা

ধরতে দুষ্টর -

করে যাই মানা।

 

পাখি ডাকে

তাইফুর রহমান

পাখি ডাকে পাখি গাছে

পাখি ভালো লাগে

পাখি ওড়ে আকাশেতে

পাখি ফুলবাগে ।

 

পাখি ওই ধানখেতে

পাখি আছে নীড়ে

সুখ আমি খুঁজে পাই

পাখিদের ভিড়ে ।

 

মনোযোগ দিয়ে শুনি

পাখি গায় গান

পাখি দেখে মনে খুব

শান্তির বান ।

 

উল্লাস করে পাখি

পাখি খায় ফল

ডানা মেলে উড়ে যায়

পাখিদের দল ।

 

পাখিদের ঢং দেখে

জুড়ায় যে আঁখি

পাখি আছে পাখি নাচে

চারদিকে পাখি।

 

ছড়া

সাকী মাহবুব

ছড়া হলো শিশুর মুখের বোল

চলনবিলের টেংরা মাছের ঝোল।

 

ছড়া হলো কলমি লতার ফুল

মায়ের কানের সোনামাখা দুল।

 

ছড়া হলো প্রজাপতির ডানা

ময়না শালিক টিয়ে পাখির ছানা।

 

ছড়া হলো কৃষ্ণচূড়ার ডাল

ছোট্র শিশুর টুকটুকে লাল গাল।

 

ছড়া হলো লালন সাঁইয়ের গান

সবুজ মাঠে সাদা বরণ ধান।

 

সন্ধ্যা তারা

মো. আরাফাত হোসেন 

আকাশ জুড়ে তারার মেলা

রুপ করে ঝলমলে,

নদীর পানি আলোয় মেখে 

ঢেউ খেলে টলমলে।

 

দল বেঁধে সব দাদুর কাছে 

গল্প শুনি ভূতের,

তাদের নাকি ইচ্ছে করে

পিঠা খাবে শীতের।

 

সামনে বড় দাঁত দুটি তার

মাথা ঘুরায় পিছে,

খিদে পেলে মাছ ধরে খায়

থাকে তালের গাছে।

 

বুকটা ভয়ে দুরু দুরু

গল্প যত শুনি,

চাঁদের আলো গায়ে মেখে 

সন্ধ্যা তারা গুনি। 

 

সাপের ডিম

তাজুল ইসলাম নাহীদ

সবুজ ঘাসে খোকন সোনা

পেলো তিনটি ডিম,

হাতে নিয়ে ভয়ে সে যে

হয়ে গেলো হিম।

 

শুনে ছিলো লোকের মুখে 

ছোট্ট বেলায় সে,

সবুজ ঘাসে সাদা ডিম ঐ

সাপে পাড়ে যে।

 

সত্যিই যদি সাপের ডিম হয় 

বাঁচার উপায় নাই,

সোনার জীবন এক কামড়ে

করে দিবে ছাই।

 

এ কথাটা মনে হতেই 

কেঁপে উঠল হাত,

ভয়ে সে যে ডিমগুলো সব

ফেললো সাথে সাথ।

 

মনে মনে চিন্তা করে 

ধরলাম কেনো হায়,

শুনতে পারলে এসব কথা

মারবে এখন মায়।

 

 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ