ঢাকা,মঙ্গলবার 25 June 2024, ১১ আষাঢ় ১৪৩১, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৪৫ হিজরী
Online Edition

দেশের কোথাও আইনের শাসন নেই: ড. ইউনূস

সংগ্রাম অনলাইন: দেশের কোথাও আইনের শাসন নেই বলে মন্তব্য করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত প্রাঙ্গণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. ইউনুস বলেন, ‘আইনের শাসন বলে যে জিনিস সেটা আমরা কোথাও পাচ্ছি না। এখন রমজানের দিন। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেন, বালা-মুসিবত থেকে আমরা বাঁচি। আমাদের ওপর অনেক বালা-মুসিবত। আমার ওপর ব্যক্তিগত বালা-মুসিবত, সহকর্মীদের ওপর এবং দেশের ওপরও। তার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমরা দোয়া করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেন সত্যি সত্যি খুশির ঈদ উদযাপন করতে পারি। তার সঙ্গে পহেলা বৈশাখ। এর মধ্যে বালা-মুসিবত থেকে কিভাবে উদ্ধার পাব সবাই মিলে চিন্তা-ভাবনা করি। এককভাবে আমরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত, তেমনি বালা-মুসিবতে সমষ্টিগতভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত। কাজেই এগুলো থেকে অতিক্রম করতে না পারলে আমাদের মুক্তি নাই, রেহাই নাই। মানুষের রেহাই পাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করতে হবে।’

নোবেলজয়ী অধ্যাপক আরও বলেন, ‘আমরা নিজের মনে কাজ করে যাই, করে যাচ্ছিলাম। কোনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব নিয়ে কাজ করি না। কতগুলো অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করি, সত্য নিয়ে কাজ করি। দেশ-বিদেশের মানুষ বিশ্বাস করছে যে কারণে তারা উৎসাহিত। মনে হয়েছে এটা মানুষের মঙ্গলের জন্য। সেজন্য দেশ-বিদেশের নেতারা এটা জানতে চায়, বুঝতে চায়। নিজ দেশে প্রয়োগ করতে চায়। এ জন্য নানা দেশে যাই, যেতে হয়। নিজের ফুর্তির জন্য যাওয়া তো না, এটা তাদের নেহায়েত আগ্রহে।’

ড. ইউনুস বলেন, ‘আমার মাঝে মাঝে দুঃখ হয়, সারা দুনিয়া বাংলাদেশের কাছ থেকে শিখতে চায়। আমাদের গৌরববোধ করতে হয়। তা না করে আমরা এমন কাজ করছি, আমরা যেন পাপের কাজ করে ফেলেছি। এমন অনুভূতি হওয়ার তো কোনো কারণ ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই, দেশের মানুষ আনন্দ পাক। জাতি হিসেবে গর্ব করতে পারি, সারা দুনিয়ার সামনে। এমনসব জিনিস নিয়ে আসছি, তারা (বাইরের দেশ) আমাদের কাছ থেকে জানার জন্য, বুঝার জন্য, তাদের দেশে করার জন্য সেটা উন্নত দেশ হোক বা অনুন্নত দেশ হোক কোনো পার্থক্য নেই। সবাই চায় আমাদের কাছ থেকে শিখতে। যে শিখতে চায়, আমরা তো তাদের বাধ্য করছি না। উৎসাহ নিয়ে তারা আসছে। সে সুযোগটা আমরা দিব না কেন। দুনিয়ার এ মাথা থেকে ওই মাথা পর্যন্ত আমাদের কাছ থেকে শিখতে চায়।’

এ নোবেলজয়ী বলেন, ‘বর্তমানে আমরা যেভাবে অগ্রসর হচ্ছি, সারা দুনিয়া অগ্রসর হচ্ছে তাতে দুনিয়া সর্বস্বান্ত হয়ে যাবে, শেষ হয়ে যাবে, বিনষ্ট হয়ে যাবে। সেটা থেকে উদ্ধারের একটা রাস্তা সৃষ্টি করেছি। সেটা নিয়ে মানুষের আগ্রহ। তারা বিশ্বাস করছে, এ রাস্তা করলে সারা দুনিয়া উদ্ধার পাবে। তবে আমরা পদে পদে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছি।’

বালা-মুসিবতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বালা-মুসিবত হচ্ছে মানুষ যেভাবে বাঁচতে চাই, থাকতে চাই সেভাবে থাকতে পারছে না। আইনের শাসন বলে যে জিনিস সেটা আমরা পাচ্ছি না কোথাও। আমরা এদেশের অংশীদার, আমরা সবাই মিলেই এদেশ। আমার অনুরোধ মাহে রমজানের মাসে নিজেদের দিকে তাকাই, নিজ নিজ ভূমিকা পালন করি। আমরা যেটা করতে চাচ্ছিলাম, সেটা করতে পাচ্ছি কি না। না করতে পারলে কিভাবে আমরা প্রতিবাদ জানাব, কিভাবে কথাগুলো শোনাতে পারব, শোনাবার পথ আমরা বের করব। পথ আমাদের বের করতেই হবে। তাছাড়া কোনো উপায় নেই।’

গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারীদের সংরক্ষিত ফান্ডের লভ্যাংশের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় আজ নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আস সামছ জগলুল হোসেনের আদালত এ চার্জশিট গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ-৪ নম্বর আদালতে বদলির আদেশ দেন। আগামী ২ মে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

এদিন দুপুর পৌনে ১টার দিকে আদালতে আসেন ড. ইউনূসসহ অন্যান্য আসামিরা।তবে গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালক শাহজাহান অসুস্থ থাকায় আদালতে উপস্থিত না হয়ে সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি আদালতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান।

গত বছরের ৩০ মে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। সংস্থার উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ