মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪
Online Edition

চট্টগ্রাম টেস্টে হারের প্রহর গুণছে বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম ব্যুরো : ব্যাটে-বলে বাজে পারফরম্যান্সে আরেকটি হারের প্রহর গুণছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে প্রথম ইনিংসে ৫৩১ রান তুলেছিল শ্রীলংকা। পরে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেমেছে মাত্র ১৭৮ রানে। পরে বাংলাদেশকে ফলোঅন না করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ১৫৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলংকা। যাতে বাংলাদেশের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ৫১১ রানের। ৫১১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চা বিরতির আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ। বিরতির পর অবশ্য দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দল। সাকিব আল হাসান ও লিটন দাসের ব্যাটে ভর করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল বাংলাদেশ। তাদের দারুণ এক জুটিতে কিছুটা আশার আলো দেখলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থায়ী হয়নি। দিনের শেষভাগে মিরাজ-শাহাদাত জুটিও চেষ্টা করেছিল বেশ। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ দিনশেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৬৮ রান তুলে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য ম্যাচের পঞ্চম দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন আরও ২৪৩ রান। ম্যাচ জিততে লংকানদের দরকার ৩ উইকেট। চা বিরতির পর প্রায় দেড় ঘণ্টা ব্যাট করেছেন সাকিব-লিটন জুটি। অনায়াসেই লংকানদের বোলারদের সামলাচ্ছিলেন তারা। বেশ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতেই ব্যাট চালাচ্ছিলেন সাকিব-লিটন জুটি। ৬১ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে কিছুটা হলেও ভরসা দিচ্ছিলেন এই দুই ব্যাটার। তবে ভালো শুরু পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারলেন না সাকিব-লিটনের কেউই। সাকিবকে ফিরিয়ে এই জুটি ভেঙে লংকানদের আনন্দে ভাসান কামিন্দু মেন্ডিস। ৫৩ বলে ৩৬ রান করা সাকিবের দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরেন স্লিপে দাঁড়ানো নিশানকা। সাকিব ফেরার পর খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটনও। লাহিরু কুমারার শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে কিপারের হাতে ক্যাচ দেন লিটন। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে করেছেন ৭২ বলে ৩৮ রান। লিটন ফিরলে ১৯৬ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লিটন ফেরার পর দিনের বাকিটা সময় বেশ ভালোই প্রতিরোধ গড়েছিলেন মেহেদি মিরাজ ও শাহাদাত হোসেন। তাদের জুটির কল্যাণেই ৫ ইনিংস পর ২০০ পেরোয় বাংলাদেশের ইনিংস। দিনের একদম শেষ প্রান্তে কামিন্দু মেন্ডিসের বলে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন শাহাদাত। ৩৪ বলে ১৫ রান করা শাহদাত পড়েছেন এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে। দিনের বাকি সময়টা নাইট ওয়াচম্যান তাইজুল ইসলামকে নিয়ে পার করে দিয়েছেন মিরাজ। দিনের শেষাংশে এই জুটি তুলেছে ২৫ রান। ঝড়ো এক ইনিংস খেলা মিরাজ অপরাজিত আছেন ৪৪ রা রানে, ৪৯ বল খেলে মেরেছেন ৭টি চার। তাইজুল করেছেন ১০ রান। ম্যাচ বাঁচাতে শেষ দিনে অবিশ্বাস্য কিছুই করে দেখাতে হবে বাংলাদেশকে। অথবা তাকিয়ে থাকতে হবে বৃষ্টির দিকে। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অসম্ভব টার্গেট তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথম সেশনে বেশ ভালোই খেলছিলেন দুই তরুণ ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও জাকির হাসান। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই লংকান স্পিনার প্রবাত জয়াসুরিয়াকে কাট করতে গিয়ে সরাসরি বোল্ড হয়েছেন মাহমুদুল হাসান। ফেরা আগে করেছেন ২৪ রান। খানিক বাদে ফিরেছেন অপর ওপেনার জাকিরও। দলীয় ৫১ রানের মাথায় লংকান পেসার বিশ্ব ফার্নান্দোর বেরিয়ে যাওয়া বলে খোঁচা মেরে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন জাকির। প্রথম ইনিংসে ৫৪ রান করা তরুণ ওপেনার আজ কাটা পরেন ব্যক্তিগত ১৯ রানে। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ মুমিনুল হক বেশ ভালোই খেলছিলেন। পুরো সিরিজে অফ ফর্মে থাকা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ক্রিজে সেট হয়ে বড় একটা ইনিংস খেলার ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। লংকান পেসার লাহিরু কুমারার ভেতরে ঢোকা বলের লাইন মিস করে সরাসরি বোল্ড হয়েছেন। ৫৫ বলে ২০ রান করে ফিরেছেন শান্ত। চলতি সিরিজে দুই ম্যাচ মিলিয়ে মোট ৪ ইনিংসে শান্তর এটাই সর্বোচ্চ স্কোর! অভিজ্ঞ মুমিনুল হক সেট হওয়ার পর রান তুলছিলেন ওয়ানডে গতিতে। চা বিরতির আগ মুহূর্তে কাটা পড়েছেন সেই মুমিনুলও। প্রবাত জয়াসুরিয়াকে সুইপ খেলতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েছেন মুমিনুল। ফিফটি করেই যেন নিজের দায়িত্ব শেষ মনে করেছিলেন! ৫৬ বলে ৫০ রান করে ফেরেন সাবেক অধিনায়ক। সংবাদ সম্মেলনে আসা মুমিনুল হক বললেন, ম্যাচ হারের কারণ ও ব্যাটারদের সমস্যা হয়েছে কোথায়। এই ম্যাচ জিততে বা ড্র করতে হলে বাংলাদেশকে পঞ্চম দিনে পাড়ি দিতে হবে কঠিন পথ। ম্যাচ জিততে হলে গড়তে হবে বিশ্ব রেকর্ড, রান করতে হবে আরও ২৪৩। ড্র করতে হলে খেলতে হবে পুরো এক দিন। যেখানে হাতে বাকি কেবল ৩ উইকেট। মুমিনুল হকের মতে, ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পার্থক্যের গ্যাঁড়াকলে আটকা নতুন ক্রিকেটাররা। 'হ্যাঁ আমি আর অন্য আরেকটা জুনিয়র ক্রিকেটারের মধ্যে তফাত আছে। আমি আজকেসহ ৬১টা টেস্ট ম্যাচ খেলেছি। আমি অনেক খেলার কারণে হয়ত বুঝি কখন কী করতে হবে কীভাবে করতে হবে। কখনও হয়ত কাজে লাগাতে পারি কখনও পারি না।' 'আমার কাছে মনে হয় যে, শুনতেও খারাপ লাগতে পারে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের খেলা এবং আন্তর্জাতিকের খেলা অনেক ভিন্ন ভাই। আকাশ পাতাল তফাত ভাই। আপনারাও জানেন আমিও জানি সবাই জানে। আমি নিজেও তো জাতীয় লিগ খেলি আমি নিজেও কখনও চ্যালেঞ্জ ফেইস করি না। এখানে আন্তর্জাতিকে যেমন চাপ মোকাবেলা করতে হয়। আমি সততার সাথে কথাগুলো বলতেসি।'

সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৫৩১। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১৭৮। 

শ্রীলঙ্কা ২য় ইনিংস: (আগের দিন ১০২/৬) ৪০ ওভারে ১৫৭/৭ (ডি.) (ম্যাথিউস ৫৬, জায়াসুরিয়া ২৮*, ভিশ্ব ৮*; খালেদ ১১-২-৩৪-২, হাসান ১৫-২-৬৫-৪, সাকিব ১০-০-৩৯-১, তাইজুল ৪-০-১৩-০)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ