সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪
Online Edition

বরিশালের ঈদ যাত্রা : সড়কে জোয়ার নদীতে ভাটা!

বায়জীদ বোস্তামী, বরিশাল থেকে : দুই বছর আগেও প্রতি ঈদের সময়ই দেখা যেত বরিশাল ঢাকা নৌ রুটের লঞ্চসমূহে যাত্রীদের প্রচুর চাপ। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরে সেই পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে গেছে, এখন আর দেখা যায় না লঞ্চের আগাম টিকিট কেনার হুড়োহুড়ি অথবা লঞ্চের ছাদে চরে বাড়ি ফেরার চিরচারিত দৃশ্য। চলতি বছর ঈদে লঞ্চের স্পেশাল সার্ভিস চালু হলেও এখনো যাত্রী চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আগামী ৬ এপ্রিল থেকে স্পেশাল সার্ভিস চালু হলেও লঞ্চ চলবে মাত্র ছয়টি। এই ছয়টি লঞ্চের অধিকাংশ টিকিট এখনো অবিক্রিত রয়ে গেছে । সড়কপথে মাত্র তিন ঘন্টায় ঢাকা থেকে বরিশাল আসতে পারার কারণে লঞ্চে শুরু হয়েছিল যাত্রী সংকট, এখন সেটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ব্যবসা চালু রাখতে রোটেশন প্রক্রিয়ায় লঞ্চ চালানো শুরু করা হয় তাতেও পুরোপুরি পুশিয়ে উঠতে পারেনি লঞ্চমালিকরা। যার ফলে ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে অব্যাহতভাবে লঞ্চ সংখ্যা কমতে থাকে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবার আগামী ৬ এপ্রিল ঢাকা থেকে বরিশাল নগর রুটে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু হবে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ(বিআইডব্লিউটিএ) ও লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থা ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কিন্তু কাউন্টারগুলোতে ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের অগ্রিম টিকিট কেনার জন্য হুড়োহুড়ি নেই অথচ গত তিন বছর আগেও এই সময়ে লঞ্চের টিকিটের জন্য যাত্রীরা কাউন্টারে কাউন্টারে ছুটতেন। নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ ও প্যারারা রোডে অবস্থিত লঞ্চের কাউন্টার গুলোতে ঘুরে অগ্রিম টিকিট ক্রয় করার জন্য আগত যাত্রীদের কোন উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। কাউন্টার সমূহের ব্যবস্থাপকগণ অনেকটা অলস সময় পার করছেন। মেসার্স সুরভী শিপিং লাইনস কোম্পানির পরিচালক রিয়াজুল কবির বলেন, আমরা ৬ এপ্রিল সদরঘাট থেকে বরিশালের বিশেষ সার্ভিস চালু করব এখন পালাভিত্তিক প্রথা উঠিয়ে প্রতিদিন ছয়টি লঞ্চ সার্ভিসে থাকবে। ইতিমধ্যেই আমাদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়ে গেছে কাউন্টারগুলো থেকে যেকোনো যাত্রী টিকিট সংগ্রহ করতে পারবে। কিন্তু অগ্রিম টিকিটের জন্য যাত্রীদের সারা একেবারেই কম। নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ এলাকায় এমভি সুন্দরবন লঞ্চের কাউন্টারে গিয়ে কয়েকজন যাত্রীকে অগ্রিম টিকিট নিতে দেখা গেছে। রাকিবুল ইসলাম নামে এক যাত্রী জানালেন তার এক স্বজন ঈদে বাড়িতে আসবেন, এজন্য অগ্রিম টিকিট নিতে এসেছেন। কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মো. জাকির বলেন গত দুই বছরে তুলনায় এবার টিকিটের চাহিদা কিছুটা কম বলে মনে হচ্ছে। তবে দুই এক দিনের মধ্যে যাত্রীর চাপ বাড়বে। পারাবাত-১৮ লঞ্চের টিকিট মাস্টার তুহিন বলেন আমাদের লঞ্চে ২৬০ টি কেবিনের মধ্যে ৬ এপ্রিলের জন্য ১৫ টি কেবিন বুকিং হয়েছে। আগের মত কোথাও টিকিটের জন্য হাহাকার নেই।

নৌপথে যাত্রীর অভাবে এমন হাহাকার থাকলেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে সড়কপথে ঢাকা বরিশাল রুটের সকল পরিবহনগুলোর অগ্রিম টিকিট বিক্রি প্রায় শেষ পর্যায়ে। সাকুরা পরিবহনের ম্যানেজার আতিকুর রহমান জানান, টিকিট বিক্রি চলছে বেশ জোরেশোরে। এবার ঈদে লম্বা ছুটি পাওয়াতে যাত্রীদের চাপ বেশি, কোম্পানিগুলো নিজ নিজ উদ্যোগে যাত্রী চাপ সামাল দেয়ার চেষ্টা করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ