সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪
Online Edition

পাবনার সুজানগর-সাঁথিয়া উপজেলায় চলছে পেঁয়াজ কাটার উৎসব 

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের চর পাকুরিয়া গ্রাম থেকে গত ২৮ মার্চ ছবিটি ধারণ করা হয়েছে।

রফিকুল আলম রঞ্জু, পাবনা: পেঁয়াজের রাজধানী খ্যাত পাবনার সুজানগর সাঁথিয়া কৃষকদের বাড়িতে চলছে এখন পেঁয়াজ ঘরে উত্তোলনের উৎসব। জেলার এসব উপজেলায় এখন পেঁয়াজ নিয়ে চলছে উৎসব। জমি থেকে পেঁয়াজ তোলা নিয়ে এখন চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছে। অন্যদিকে চাষি বাড়ি বাড়িতে চলছে এখন পেঁয়াজ কাটার ধুম। পেঁয়াজ কাটা বলতে এখানে পেঁয়াজের গা থেকে কান্ডকে বিচ্ছিন্ন করে সংরক্ষণ করা হয়। এ সময় পেঁয়াজ দ্রুত জমি থেকে উত্তোলন করে ঘরে উঠাতে না পারলে বৃষ্টির পানিতে জমির পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যেতে পারে আশঙ্কায়ও রয়েছ। কৃষকেরা এলাকার শ্রমিকের স্বল্পতার কারণে পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে শ্রমিক সংগ্রহ করে দ্রুত জমি থেকে পেঁয়াজ উত্তোলন করে চলছে। অন্যদিকে চাষি বাড়িতে এখন চলছে পেঁয়াজ কাটার উৎসব। এ কাজে চাষিরা মহিলা শ্রমিকের সহযোগিতা নিয়ে থাকে। এজন্য পার্শ্ববর্তী এলাকার মহিলাদেরকে প্রতি মন চুক্তিতে পেঁয়াজ কাটানো হয়। সুজানগর, সাঁথিয়া প্রায় প্রতিটা এলাকার বাড়িতে এখন এ ধরনের উৎসব চলছে। মহিলারা চারদিকে গোল হয়ে পেঁয়াজ কাটা অংশগ্রহণ করে। পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে এসব নি¤œ আয়ের মহিলারা এ কাজে অংশগ্রহণ করে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করে থাকে, যা দিয়ে তার সংসারের খরচ মেটাতে পারছে। সরজমিনে দেখা গেছে সুজানগর উপজেলার বামুন্দি, রাইসিমিল, চিনাখড়া, চরদুলাই, আহাম্মেদপুর, সাঁথিয়ার গৌরীগ্রাম, চরপাইকড়ি বিভিন্ন এলাকার প্রায় প্রত্যেকটি বাড়িতেই চলছে পেঁয়াজ কাটার উৎসব। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, জেলায় এবছর ৫৩ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। গত বছর জেলায় ৪৪ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে চারা পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৫ মেট্রিক টন। গতবারের তুলনায় এবার জেলায় ৯ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে হালি পেঁয়াজের চাষ হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, দেশে প্রতি বছর পেঁয়াজের বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ২৫-২৬ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে পাবনা জেলা থেকেই উৎপাদন হয় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টন, যা মোট উৎপাদনের এক চতুর্থাংশ। আবার জেলার সাঁথিয়া-সুজানগর উপজেলা থেকে উৎপাদন হয় প্রায় পৌনে ৫ লাখ টন পেয়াঁজ। সে হিসেবে সারা দেশে মোট উৎপাদিত পেঁয়াজের এক পঞ্চমাংশ উৎপাদিত হয় পাবনার এ দুটি উপজেলা থেকে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, জেলার চাষিরা দুটি পদ্ধতিতে পেঁয়াজের আবাদ করে থাকেন। এর একটি কন্দ (মূলকাটা বা মুড়ি) ও অন্যটি চারা (হালি) পদ্ধতি। মূলকাটা পদ্ধতিতে পেঁয়াজের আবাদ শুরু হয় অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ও হালি পদ্ধতিতে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে। মূলকাটা পদ্ধতিতে আবাদ করা নতুন পেঁয়াজ ডিসেম্বর মাসে হাটে উঠতে শুরু করে। আর হালি পদ্ধতিতে চাষ করা পেঁয়াজ হাটে ওঠে মার্চের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে এপ্রিল মাস পর্যন্ত।

স্থানীয় চাষিরা বলেন, হাটে প্রতি মণ নতুন হালি পেঁয়াজ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে নি¤œমানের পেঁয়াজ ১ হাজার ৫০০ টাকা দরেও পাওয়া যাচ্ছে। আর খুব ভাল মানের কিছু পেঁয়াজই শুধু ২ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বেচা কেনা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ