মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪
Online Edition

যেমন করে হোক আওয়ামী দানব সরকারকে সরিয়ে ফেলতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার : যেমন করে হোক এই আওয়ামী দানব সরকারকে সরিয়ে ফেলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আন্দোলন আরও তীব্র করতে হবে। যে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে এখন আমাদের লক্ষ্য, জনগণকে সংগঠিত করে আন্দোলন আরও তীব্র করা এবং সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাদেরকে পরাজিত করা। গতকাল সোমবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। এসময় ভারতের নতুন সরকার বাংলাদেশে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জনআকাক্সক্ষাকে মর্যাদা দেবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বিএনপি মহাসচিব। 

সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আধুনিক কৃষি, অভিন্ন নদীর পানি আগ্রাসন এবং জলবায়ু ভারসাম্যহীনতা রোধে শহীদ জিয়ার ভূমিকা শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক শাহাদত হোসেন বিপ্লব।

নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতে নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভারতের নতুন সরকার নিয়ে সাংবাদিকরা আমাদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছেন। এই সস্পর্কে আমার বলার একটাই, ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ, নিঃসন্দেহে আমাদের প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশ। আমরা ভারতের নতুন সরকারের কাছে একটাই আশা করব, তার দেশে যেভাবে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে এখনো, তাদের নির্বাচন কমিশন যেভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তাদের বিচার বিভাগ যেভাবে কাজ করতে পারে, আমরা এদেশের জনগণ ১৯৭১ সালে সেই লক্ষ্যেই যুদ্ধ করেছিলাম। সেই লক্ষ্যেই আমরা এখানে কাজ করে গণতন্ত্রকে সেইভাবে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমাদের যেটা প্রত্যাশা যে, ভারতের সরকার, জনগণের যে প্রত্যাশা বাংলাদেশের মানুষের সেই প্রত্যাশাকে তারা মর্যাদা দেবেন, সেভাবে তারা বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলবেন। অভিন্ন নদীর হিস্যা আদায়, তিস্তা পানি বন্টন চুক্তি না হওয়া এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধে শেখ হাসিনা সরকারের ব্যর্থতারও সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন জোট বিজয়ী হওয়ায় গত রোববার তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন নরেন্দ্র মোদি এবং তার নতুন মন্ত্রিসভা।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত রোববার একটা সামাজিক অনুষ্ঠানে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এক পুরনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো। আমি নাম বলব না তার, আপনারা অনেকে চিনে ফেলতে পারেন তাকে। সে এখন রাজনীতি থেকে দূরে আছে। সে তখন ছাত্রলীগের নেতা ছিল, পরবর্তীকালে সে আওয়ামী লীগও করেছে, এমপিও হয়েছে। এখন প্রায় ১০-১২ বছর ধরে আর রাজনীতির কাছাকাছি নেই। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম তুমি রাজনীতি করছো না কেনো? বলেছে যে, কোন রাজনীতি করব? আমি বললাম, আওয়ামী লীগ করবা। সে বললো, আওয়ামী লীগ কি আওয়ামী লীগ আছে? এটা তো এখন আজিজ আর বেনজীরের আওয়ামী লীগ। এই যে, দেখুন একজন আওয়ামী লীগের নেতা তার উপলব্ধিটা এই হয়েছে যে, সে রাজনীতি থেকে চলে গেছে, এটাই বাস্তবতা। তিনি বলেন, আজকে আওয়ামী লীগ সেই আওয়ামী লীগ নেই যে স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছিলো, এই আওয়ামী লীগ নেই যারা আমাদের সাথে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম-লড়াই করেছিলো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যখনই আসে তখনই তাদের কেমিস্ট্রিতে পরিবর্তন শুরু হয়। সেই পরিবর্তনটা হচ্ছে তারা সর্বগ্রাসী হয়ে যাওয়া শুরু করে। শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই বলেছিলেন ওই সময়ে, সবাই পায় সোনার খনি, আমি পাই চোরের খনি। চোরের খনি সব দিকে, তখন কম্বল এসেছিলো, বললেন আমার কম্বলটা চুরি করে নিয়ে গেছে।

ক্ষমতাসীনরা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এরা (সরকার) পরিকল্পিতভাবে সচেতনভাবে বাংলাদেশকে একটা নতজানু ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, ফেলড স্টেট করতে চায় যেটা জিয়াউর রহমান সাহেব রুখে দিয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের পরে তার সেই অসাধারণ মেধাবী, সততা, যোগ্যতার যে নেতৃত্ব সেই নেতৃত্ব দিয়ে। সেই ব্যর্থ রাষ্ট্রে আবার পরিণত করতে চায়। অনেকে বলবে, এতো উন্নয়ন করছে, মেগা প্রজেক্ট করছে, এতো ফ্লাইওভারস সব কিছু। কিন্তু সেই সঙ্গে এই ফ্লাইওভার, মেগা প্রজেক্ট থেকে তারা কত মেগা পাচার করেছে, চুরি করেছে। একই সঙ্গে আমার সাধারণ মানুষের, গ্রামের মানুষের কি উপকারটা হয়েছে। এতো উন্নয়ন করেছে যে, ঢাকা শহরে আর লোক থাকতে পারছে না। তারা চলে যাচ্ছে গ্রামে। কিন্তু কি দুর্ভাগ্য! গ্রামে ফিরে গিয়েও তার কর্মসংস্থান নাই, কাজ পাচ্ছে না। কোথায় কাজ পাবে দেশে তো কোনো কাজ নাই।

তিনি বলেন, আজকে এমন একটা অবস্থা হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা একেবারেই শেষ পর্যায় গিয়ে পৌঁছেছে ইনফ্লুয়েশন। বাজেট দিয়েছে সম্পূর্ণ বাজেটটা হচ্ছে, তাদের লুটপাটের বাজেট। বিচার নাই, কোথাও কোনো ব্যবসা করতে গেলে তার কোনো সুযোগ পাবেন না, টাকা দিতে হবে, টাকা ছাড়া ঘুষ ছাড়া কেউ কথা বলে না। শিক্ষা ব্যবস্থা দেখুন, কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, ছাত্ররা আবার মাঠে নেমেছে। আমাদের সবচেয়ে বড় যে, সংকট হচ্ছে, আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার, ভোটের অধিকার সেই অধিকারটা সেটা তারা কেড়ে নিয়েছে। আজকে গোটা পরিবার, দল এবং ব্যক্তিকে নিয়ে সে একটা পুরোপুরি ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে, যে ফ্যাসিবাদে আমরা নির্যাতিত হচ্ছি।

আন্দোলন আরও তীব্র করতে হবে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, যে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে এখন আমাদের লক্ষ্য, যেমন করে হোক এই দানবকে সরিয়ে ফেলতে হবে। এর সেই পথ একটাই- জনগণকে সংগঠিত করে আমাদেরকে আন্দোলন আরও তীব্র করতে হবে এবং সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাদেরকে পরাজিত করতে হবে।

জলাবায়ু ফান্ড খেয়ে ফেলেছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ভয়াবহ অবস্থা। বাংলাদেশ যে গভীর চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে বৈশ্বিক যে পরিবর্তন হচ্ছে উষ্ণতা, সেই উষ্ণতার কারণে বলা হচ্ছে, জলবায়ু বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাংলাদেশের শতকরা ১৭ ভাগ মানুষ তারা এফেক্টেড হবেন, এটার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে অলরেডি। এটাকে প্রতিরোধ করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে তারা চেষ্টা করছে সবাই মিলে। তার জন্য কিছু ফান্ডও বাংলাদেশকে তারা দিয়েছিলো। সেই ফান্ড তারা(সরকার) খেয়ে ফেলেছে। এদের তো খিদার শেষ নেই। সর্বগ্রাসী ক্ষুধা। আমরা নাট্যকার সেলিম আল দ্বীনের লেখা একটা নাটক দেখেছিলাম, সেই নাটকে মূল চরিত্র ছিলো সেই চরিত্র সব কিছু খেয়ে ফেলা। প্রচুর খায়.. সব খেয়ে যখন শেষ তখন কাগজপত্র খেতে শুরু করলো, টেবিল খাওয়া শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ আজকে সেই অবস্থায় চলে গেছে। তারা এখন সব কিছু খেয়ে ফেলছে।

দেশের নদ-নদী শুকিয়ে যাওয়া, বুড়িগঙ্গাসহ দেশের নদ-নদীর দূষণ, বিভিন্ন নদীতে রাসায়নিক বর্জ্য অপসারণ, বিশ্বের অন্যতম দূষিত নগরী ঢাকা শহরকে রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন বিএনপি মহাসচিব। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে কৃষিতে বাজেটে বরাদ্দ ক্রমাগত কমানো হয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।

কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে ও দফতর সম্পাদক শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, সহসভাপতি নাসির হায়দার, মামুনুর রশীদ খান, এসএম ফয়সাল, খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, আনম খলিলুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক ওবায়দুর রহমান টিপু এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জামসেদ আলী রিপন বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ