সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪
Online Edition

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ও ড. ইউনূস প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যা বললো

 

স্টাফ রিপোর্টার: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে উঠে এসেছে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রসঙ্গ। এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। তার কাছে স্টেট ডিপার্টমেন্টের সংবাদদাতা মুশফিকুল ফজল আনসারী ড. ইউনূসসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাশিয়া সফর সম্পর্কেও জানতে চান। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে তারা ড. ইউনূসের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আবারও উঠে এলো মুহাম্মদ ইউনূসের প্রসঙ্গ। 

মুশফিকুল ফজল আনসারী মিলারের কাছে দুটি বিষয়ে জানতে চান, প্রথমত, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অলাভজনক প্ল্যাটফর্ম আছে, যেটি কমিটি ফর ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ নামে পরিচিত। প্লাটফর্মটি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনি সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে একটি চিঠি লিখেছে। চিঠিতে মার্কিন সরকারের পদক্ষেপের অভাবের সমালোচনা করা হয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ড. ইউনূসের বিষয়ে লবিংয়ে অভিভূত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের আদালত ড. ইউনূস তার নিজের ট্যাক্সও দিচ্ছেন না বলে প্রমাণের দাবি করেছে। আদালতের উত্থাপিত উদ্বেগের ফলে মার্কিন সরকারের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া কী হবে? জবাবে মিলার বলেন, ড. ইউনূসের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, আমরা তার বিরুদ্ধে মামলার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।

আমরা কিছু সময়ের জন্য আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। এই মামলাগুলি ড. ইউনূসকে হয়রানি ও ভয় দেখানোর জন্য বাংলাদেশের শ্রম আইনের অপব্যবহারের প্রতিনিধিত্ব করছে বলে আমরা মনে করি। বাংলাদেশের একটি প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে আমরা উদ্বিগ্ন যে, শ্রম ও দুর্নীতিবিরোধী আইনের অনুভূত অপব্যবহারে আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে এবং ভবিষ্যতে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

ওই সংবাদদাতা তার দ্বিতীয় প্রশ্নে মিলারের কাছে জানতে চান, সবাই রাশিয়ায় মোদির সফর নিয়ে কথা বলছিল, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদির রাশিয়া সফর এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি কী?  জবাবে মিলার বলেন, আমি ইতিমধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে কথা বলেছি। আমি যা বলেছি তাতে যোগ করার কিছু নেই। এবং চীন সফরের বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, দেখুন, আমরা যা বুঝি দেশগুলো চীনের সাথে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রও চীনের সঙ্গে জড়িত। পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী নিজেও দুইবার চীন সফর করেছেন, তাই এ বিষয়ে আমার আর কোনো মন্তব্য নেই। 

ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে সংবাদদাতা আরও জানতে চেয়ে মিলারকে তিনি প্রশ্ন করেন, সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে, ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেন যে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নন এবং তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন তাকে অধ্যাপক ইউনূসের বিষয়ে ফোন করেছিলেন এবং অনেক মার্কিন কর্মকর্তা ইউনূসের পক্ষে লবিং করেছিলেন এবং হুমকি দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা আরও দাবি করেন যে পদ্মা সেতু নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাংকের তহবিল বাতিল করতে তদবির করেছে। প্রফেসর ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকরে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সমর্থনকারী তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে এবং প্রধানমন্ত্রীর দাবি যে তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। যদিও তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের এবং নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন, এক্ষেত্রে স্টেট ডিপার্টমেন্ট কি পারবে প্রধানমন্ত্রীর এসব দাবির যথার্থতা কী তা স্পষ্ট করতে? জবাবে মিলার বিস্তারিত বলতে রাজি হননি। তিনি বলেছেন, আমি মনে করি না যে আমার কোনো মন্তব্য আছে। অর্থাৎ হিলারি ক্লিনটনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে প্রায় ১২ বছর অতিবাহিত হয়েছে। না, এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ