সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪
Online Edition

দেশবিরোধী চুক্তি থেকে দৃষ্টি সরাতেই বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করছে অবৈধ সরকার

বেগম জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় গতকাল বুধবার রাজধানীর রামপুরার একটি মাদরাসায় আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশবিরোধী চুক্তি থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতেই পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করছে অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার। গতকাল বুধবার খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় রাজধানীর রামপুরার একটি মাদ্রাসায় এক মিলাদ মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যার চক্রান্ত ষড়যন্ত্র করছে এ সরকার।

রিজভী বলেন, প্রতি মুহূর্তেই বিএনপির ওপর আক্রমণ চালাচ্ছেন ক্ষমতাসীনরা। ভারতের সঙ্গে রেল করিডর-সমঝোতা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। ট্রেনে করে সামরিক সরঞ্জাম বহন করবে ভারত সরকার। পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোকে মোকাবিলা করতে ভারত বাংলাদেশকে ব্যবহার করবে তারা।

বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল কর্তৃক আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। 

মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিমের পরিচালনায় আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-অর্থনৈতিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি তৌহিদুর রহমান আউয়াল। 

আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল, সিরাজ হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি তারেক উজ জামান তারেক, ছাত্রদল নেতা সাহাবুদ্দিন ইমন, মো. সাব্বির, ডা. পিয়াস, শাহ পরান, মিরাজ হোসেন, আশরাফুল আসাদ, মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন খান, ওমর ফারুক পাটোয়ারী, জাহাঙ্গীর আলম সনি, একেএম ওয়াজ, কবির উদ্দিন মাস্টার, জহিরুল ইসলাম বাসার, মৎস্যজীবী দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহ আলম ও সদস্য সচিব কেএম সোহেল রানা, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমির হোসেন আমির ও সদস্য সচিব মো. বাকিবিল্লাহ, কেন্দ্রীয় সদস্য হাজি আনোয়ার হোসেন, ফজলে কাদের সোহেল, মো. জাহিদুল আলম মিলন, বরিশাল উত্তর জেলার সদস্য সচিব জাকির হোসেন তালুকদারসহ নেতৃবৃন্দ।

যখন বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় তখন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঘুমায় না কী করে- সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুধু বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করার জন্য তাদের (গোয়েন্দা সংস্থা) গঠন করা হয়ে কি না সেই প্রশ্নও তুলেছেন এই বিএনপি নেতা। রিজভী বলেন, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে গোটা জাতিকে একটা ইস্যুপ্রেমি বানানোর চেষ্টা করছে এই ডামি সরকার। সে কারণে একেক সময় একেক ঘটনা ঘটাচ্ছে সরকার। অর্থাৎ তুমি ওইদিকে তাকাও, আমি যা করছি সেদিকে তাকাবে না।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, বেনজীররা যে দুর্নীতি করেছে, আজিজরা যে দুর্নীতি করেছে, অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা যে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেছে আপনি কি এগুলো দেখেন না? আপনার এজেন্সিগুলো, আপনার গোয়েন্দা বাহিনীগুলো কী করে? তারা কি দেখে না? তাদের কি শুধু বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করার জন্যই কি তৈরি করা হয়েছে? তা না হলে একজন পিয়ন কী করে ৬০ কোটি টাকার মালিক হন। একজন ড্রাইভার যদি ১০০ কোটি টাকার মালিক হন সেটা কি আপনার সরকার জানবে না?

রিজভী বলেন, যখন বিসিএসের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় তখন কি গোয়েন্দা বিভাগ বিছানায় ঘুমিয়ে থাকে? যখন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় তখন তারা কী করে? তারা কি দিনের বেলায় ঘুমায়? তা না হলে এত দুর্নীতি হয় কী করে?

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আজ বাংলাদেশের বুক চিরে পার্শ্ববর্তী দেশের রেললাইন নিয়ে যাবে, আমাদের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার জন্য এই কাজগুলো করা হচ্ছে। অথচ আমাদের সীমান্তে যখন এ দেশের নাগরিকদেরকে হত্যা করা হয়, রক্তাক্ত করা হয়, তখন এই সরকার কোনো প্রতিবাদ করে না, তারা নিশ্চুপ হয়ে যায়। অথচ সেই দেশের স্বার্থে আমাদের দেশের ভেতর দিয়ে রেলের করিডোর দেওয়া হচ্ছে।

রিজভী বলেন, প্রতিবেশী দেশ তাদের রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশের জমিনকে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। অর্থাৎ বাংলাদেশকে একটা চিরস্থায়ী আন্তর্জাতিক চক্রান্ত, আন্তর্জাতিক খেলাধুলার মধ্যে ফেলে দেওয়ার একটা প্রচেষ্টা তারা হাতে নিয়েছে। সে কারণে আমরা দেখতে পাচ্ছি, সরকার জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে দিচ্ছেন নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্য, দেশবিরোধী সব চুক্তি করার জন্য। তাই কখনো আমরা দেখছি আজিজ কা-, কখনো দেখছি বেনজীর কা-, কখনো দেখছি পিএসসির ড্রাইভার কা-, কখনো দেখছি মতিউর কা-- একের পর এক কা- আমরা দেখতে পাচ্ছি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, সব নির্যাতনের পরও সত্যের জন্য, মানুষের মুক্তির জন্য এবং মানুষের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য আমাদের লড়াই, আমাদের রাজনীতি আমরা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ